গবেষণার লক্ষ্য হওয়া উচিত রাষ্ট্রকেন্দ্রিক; ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়: রাবি উপাচার্য


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ২৭, ২০২৬, ৪:৩৯ অপরাহ্ণ
গবেষণার লক্ষ্য হওয়া উচিত রাষ্ট্রকেন্দ্রিক; ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়: রাবি উপাচার্য

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে (রাবি) আন্তর্জাতিক মানের ও গবেষণামুখী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বর্তমান প্রশাসন। গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন, দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক পরিকল্পনা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬তম উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম।

সম্প্রতি আরটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সংকট, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন উপাচার্য। তিনি বলেন, আগামী চার বছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান, যাতে এটি শুধু দেশের মধ্যেই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে পারে।

উপাচার্য বলেন, বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ড্রোন প্রযুক্তি ও আধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণায় দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। এসব ক্ষেত্রে তাল মিলিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও শিক্ষাকে এগিয়ে নেওয়াই তার অন্যতম লক্ষ্য। গবেষণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা শুধু ব্যক্তিগত উন্নয়ন বা পদোন্নতির জন্য নয়, বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। দেশের সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ লক্ষ্যেই গবেষণার অর্থায়ন বাড়ানো এবং অর্থ ব্যবহারের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

তিনি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার জন্য বরাদ্দ কমেনি, বরং বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে গবেষণার অর্থ যেন যথাযথভাবে ব্যবহার হয় এবং সমাজের উপকারে আসে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিয়ে উপাচার্য বলেন, বর্তমানে রাবির প্রায় ৩৫ থেকে ৩৬ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পাচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এই হার ৫০ শতাংশ, এরপর ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রায় শতভাগে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, নির্মাণাধীন কয়েকটি হলের কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন আরও কয়েকটি হল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে আবাসন সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি থাকা স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয়। তবে ভবিষ্যৎ নির্বাচন আয়োজন পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

দায়িত্ব নেওয়ার পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে উপাচার্য বলেন, শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ধরনের অস্থিরতা ছিল। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, গবেষণা ও স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া সেশনজট নিরসন, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, হলগুলোর পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা, শিক্ষক ও কর্মকর্তা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের বিষয়ে তিনি বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিতে যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক এবং কর্মকর্তা নিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, শুধু পাঠ্যবই ও মুখস্থ বিদ্যার ওপর নির্ভর করলে বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকা কঠিন। শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের পাশাপাশি সফট স্কিল অর্জন, প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া এবং বিশ্বে কী ঘটছে সে বিষয়ে ধারণা রাখার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চার-পাঁচ বছর সময় নিজেকে গড়ে তোলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়কে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের দেশ ও বিশ্বের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।