মার্কিন হুমকিকে ‘বুড়ো আঙুল’, ৫২ বছরের নিষেধাজ্ঞা বহাল মালয়েশিয়ায়


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ২৩, ২০২৬, ৫:৪২ অপরাহ্ণ
মার্কিন হুমকিকে ‘বুড়ো আঙুল’, ৫২ বছরের নিষেধাজ্ঞা বহাল মালয়েশিয়ায়

প্রায় ৫২ বছর ধরে ইসরায়েলের ওপর জারি থাকা নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার ঘোষণা দিয়েছে মালয়েশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও হুমকির পরও দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইসরায়েলি নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া তার সার্বভৌম অধিকার প্রয়োগ করছে। তিনি জানান, দেশটিতে অবস্থানরত ইসরায়েলি নাগরিকদের বিষয়েও তদন্ত করা হবে এবং আইন ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৯৭৪ সাল থেকে ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ মালয়েশিয়ার। দেশটিতে ইসরায়েলি পাসপোর্টধারীদের প্রবেশের জন্য সাধারণত বিশেষ অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আটজন আইনপ্রণেতা মালয়েশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। তারা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে দেওয়া এক চিঠিতে দাবি করেন, ইসরায়েলি নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করলে মালয়েশিয়ার জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ সহায়তা কর্মসূচির অর্থায়ন স্থগিত করা হতে পারে।

তবে এ দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মালয়েশিয়ার নীতি কোনো ধর্ম বা জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়। তিনি বলেন, ইহুদিদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার কোনো অবস্থান নেই; বরং ইসরায়েলি নাগরিকদের বিষয়ে নেওয়া নীতির কারণ তাদের সরকারের কার্যক্রম ও ফিলিস্তিনে চলমান পরিস্থিতি।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, হুমকি দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু দেশের জনগণের অধিকার ও সিদ্ধান্ত রক্ষা করা তার দায়িত্ব। মালয়েশিয়া একটি স্বাধীন রাষ্ট্র এবং নিজস্ব নীতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে। এই বিরোধের সূত্রপাত জোহর রাজ্যের একটি প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সম্প্রদায়কে ঘিরে। অভিযোগ ওঠে, কিছু ইসরায়েলি নাগরিক অন্য দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে সেখানে বসবাস করছেন। এরপর আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছিলেন, তদন্তে কোনো ইসরায়েলি নাগরিক পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরে অভিবাসন কর্মকর্তারা ৪০টি দেশের ২৬৬ জন বিদেশিকে তদন্ত করে বেশিরভাগের বৈধ কাগজপত্র পাওয়ার কথা জানান। তবে দ্বৈত নাগরিকত্বধারী হিসেবে সন্দেহভাজন ১১ জনের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও দুই দেশের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সম্পর্ক বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ার সম্ভাবনা কম। তবে ফিলিস্তিন ইস্যুতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কুয়ালালামপুরের অবস্থানগত দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।