মিম, হাসি আর প্রতিবাদের বিক্ষোভে সরব ভারতের তরুণরা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ২২, ২০২৬, ৬:০৭ অপরাহ্ণ
মিম, হাসি আর প্রতিবাদের বিক্ষোভে সরব ভারতের তরুণরা

ভারতের তরুণদের প্রতিবাদের ধরন বদলে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মিম, ছোট ভিডিও ও ব্যঙ্গ-রসকে হাতিয়ার করে এবার রাজপথে নেমেছেন হাজারো তরুণ-তরুণী। শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার, প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দূর করা এবং সরকারের জবাবদিহির দাবিতে তাদের এই আন্দোলন দেশটিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে সংসদের উদ্দেশে ডাকা পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার আগে অনেক তরুণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের মজার ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করেন। পরে ওই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জের ঘটনাও ঘটে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর এই আন্দোলন ছিল ভারতের নতুন প্রজন্মের একটি ভিন্নধর্মী প্রতিবাদের উদাহরণ। তারা শুধু প্রচলিত স্লোগান বা মিছিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাকার্ড, মিম, ছোট ভিডিও এবং সৃজনশীল বার্তার মাধ্যমে নিজেদের দাবি তুলে ধরেছে।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক তরুণের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে ছিল হাস্যরসাত্মক বক্তব্য। তবে এসব ব্যঙ্গের আড়ালে ছিল শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রশ্নপত্র ফাঁস, চাকরির অনিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তরুণদের দাবি, এসব বিষয়ে সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

এই আন্দোলনের বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগে অনেকেই নিজেদের প্রস্তুতির ভিডিও প্রকাশ করেন। আবার পুলিশের বাধা, ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা এবং আন্দোলনের বিভিন্ন মুহূর্তের দৃশ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ইন্টারনেটে। এর ফলে আন্দোলনটি আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শুধু দিল্লি নয়, কলকাতা, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, চণ্ডীগড়সহ ভারতের বিভিন্ন শহরেও আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানানো হয়। যারা সরাসরি কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেননি, তাদের অনেকে আন্দোলনকারীদের জন্য খাবার পাঠান। কোথাও কোথাও বিনা মূল্যে চা বিতরণের ব্যবস্থাও করা হয়।

আন্দোলনের শুরুতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনশন শুরু করেছিলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। পরে তাকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাসপাতালে নেওয়ার ঘটনায় আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়ে। এরপর সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার ডাক দেওয়া হলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও তরুণ এতে অংশ নেন।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের নতুন প্রজন্ম এখন প্রতিবাদের ভাষাকেও নতুনভাবে উপস্থাপন করছে। হাসি-ঠাট্টা, মিম, গান, ভিডিও ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে তারা আন্দোলনের অংশ বানিয়েছে। তবে এসব সৃজনশীলতার আড়ালে রয়েছে নিজেদের দাবি, ক্ষোভ ও প্রত্যাশা সবার সামনে তুলে ধরার লক্ষ্য।