সাবেক ভূমিমন্ত্রীর দুই ফ্ল্যাটে মিললো দেড় হাজার বিলাসবহুল পণ্য


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ২০, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
সাবেক ভূমিমন্ত্রীর দুই ফ্ল্যাটে মিললো দেড় হাজার বিলাসবহুল পণ্য

রাজধানীর গুলশানে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের দুই ফ্ল্যাটে আদালতের আদেশে দ্বিতীয় দিনের মতো ক্রোক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ সময় ফ্ল্যাট দুটিতে থাকা বিভিন্ন মালামালের তালিকা তৈরির কাজ শেষ করেছে দুদকের বিশেষ টিম।

সোমবার (২০ জুলাই) দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ জানান, গুলশানের ৬৬ নম্বর রোডের নর্থওয়েস্ট বি ব্লকের ১১ নম্বর প্লটের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মোট ২৬৯ ধরনের পণ্যসামগ্রীর তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব পণ্যের সংখ্যা দেড় হাজারের বেশি।

তিনি জানান, ফ্ল্যাট এ-৭ থেকে প্রায় ১ হাজার ১৩৫টি এবং ফ্ল্যাট বি-৭ থেকে প্রায় ৪০০টি পণ্যসামগ্রী পাওয়া গেছে। দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত টিম আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গত দুই দিন ধরে ইনভেন্টরি কার্যক্রম সম্পন্ন করে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, জব্দ তালিকায় রয়েছে ৩০০টির বেশি কোট, ৫৩২টির বেশি টাই, ৮টি ঘড়ির বক্স, যার মধ্যে চারটি রোলেক্স ঘড়ি রয়েছে। এছাড়া প্রায় ১০০টি কামিজ, মুক্তার গয়না, ঝাড়বাতি, বেড, সোফা, এসি, সিলিং ফ্যান, ট্রেডমিল, ফ্রিজ, সুটকেস, চেয়ার ও টেবিলসহ বিভিন্ন সামগ্রী রয়েছে।

দুদক জানায়, উদ্ধার হওয়া রোলেক্স ঘড়ির ক্রয় রসিদ অনুযায়ী প্রতিটি ঘড়ির মূল্য ১৪ হাজার থেকে ১৭ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলারের মধ্যে হতে পারে। সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত একই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। শুরুতে দুদক, সিআইডি ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সমন্বয়ে সাত সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে টিম পুনর্গঠন করা হয়। বর্তমানে দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে নয় সদস্যের একটি দল অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দুদক জানায়, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রী রুকমীলা জামান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়েছে।

এর আগে গত ২ জুলাই আদালতের আদেশে সাইফুজ্জামানের গুলশানের দুটি ফ্ল্যাট নিয়ন্ত্রণে নেয় দুদক। এসব ফ্ল্যাটের সঠিক ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এছাড়া গত ২৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্যে থাকা সাইফুজ্জামানের ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রোকের নির্দেশ দেন আদালত। এর আগে ১৩ জানুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আট দেশে থাকা তার বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ দেওয়া হয়।