এক বছরে ২০ লাখ মামলা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে: আইনমন্ত্রী


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ২১, ২০২৬, ৩:১৯ অপরাহ্ণ
এক বছরে ২০ লাখ মামলা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে: আইনমন্ত্রী

দেশে বিচারাধীন মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য দ্রুত ও সহজলভ্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা (প্রি-ফাইলিং মেডিয়েশন) কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী এক বছরের মধ্যে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৪৫ লাখ থেকে ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকায় আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে ভার্চুয়ালি ১০টি জেলায় বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিচারকের স্বল্পতার বিপরীতে দেশে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট থেকে শুরু করে জেলা ও অধস্তন আদালত পর্যন্ত এই বিপুল মামলার চাপ বিচারব্যবস্থাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে। এ কারণে প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার পাশাপাশি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতিকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার বিকল্প নেই।

তিনি জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পরিচালিত পাইলট প্রকল্পে অত্যন্ত ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। এ সময়ে পারিবারিক আদালতে নতুন মামলা প্রায় ৫১ শতাংশ, বণ্টনসংক্রান্ত মামলা প্রায় ৬৭ শতাংশ এবং স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি আইনের প্রি-এম্পশন সংক্রান্ত মামলা ৮৮ শতাংশের বেশি কমেছে। একইভাবে যৌতুক নিরোধ আইনে দায়ের হওয়া মামলাও প্রায় ৬৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন আইনে গড়ে ৬২ দশমিক ২ শতাংশ মামলা কমেছে, যা বিচারব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, যেসব মামলায় আপস-মীমাংসার সুযোগ রয়েছে, সেগুলো প্রাথমিক পর্যায়েই জেলা লিগ্যাল এইড অফিস বা অনুমোদিত মধ্যস্থতাকারীদের কাছে পাঠাতে হবে। আদালতে মামলা দায়েরের পরও সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা গেলে বিচারপ্রার্থীদের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান অধিদপ্তরের মাধ্যমে পরিচালিত এই সরকারি সেবা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। এতে সাধারণ মানুষ আদালতের বাইরে আইনসম্মতভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং মামলার চাপও কমবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুরুল হোসেন বলেন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি দ্রুত, কম খরচে এবং কার্যকরভাবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একটি সময়োপযোগী পদ্ধতি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জেলা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও আইনজীবীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ উদ্যোগ বিচারব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নড়াইল, যশোর, ফরিদপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইল—এই ১০ জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।