
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বৈষম্যের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রচণ্ড তাপদাহের মধ্যে দিনে ও রাতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমানে দিনে বিদ্যুৎ থাকাই যেন ব্যতিক্রম। বাজারকেন্দ্রিক কিছু এলাকায় সীমিত সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও পৌরসভার অধিকাংশ ওয়ার্ডে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে। এতে ফ্যানসহ প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অসহনীয় গরমে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবারকে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দেওয়ানগঞ্জ পৌর এলাকার বড়বাজারসহ কিছু এলাকায় তুলনামূলক স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও ১ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে চরম লোডশেডিং চলছে। এসব ওয়ার্ডে সরকারি-বেসরকারি অফিস, হাসপাতাল, আদালত ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান থাকলেও সেবাগ্রহীতারা দুর্ভোগে পড়ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যেও বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও কর্মজীবী মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।
জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দেওয়ানগঞ্জ জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (চলতি দায়িত্ব) মো. নাফিজ হোসেন বলেন, উপজেলায় স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে দৈনিক প্রায় ১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট। জ্বালানি তেলের ঘাটতির কারণে পাওয়ার গ্রিড সচল রাখতে সমস্যা হচ্ছে, যার ফলে লোডশেডিং বেড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে, স্থানীয়রা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে তীব্র গরমের সময়ে ঘন ঘন লোডশেডিং বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
আপনার মতামত লিখুন :