
বাগেরহাটে চিংড়ি রেণুর তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন জেলার চাষিরা। মৌসুম শেষের দিকে চলে এলেও প্রয়োজন অনুযায়ী রেণু না পাওয়ায় অনেকেই নির্ধারিত সময়ে ঘেরে রেণু ছাড়তে পারছেন না, ফলে বড় ধরনের লোকসানের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া গ্রামের চিংড়িচাষি শামীম হাসান জানান, ঋণ করে ঘের শুরু করলেও সময়মতো রেণু না পাওয়ায় তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তাঁর মতে, রেণু না ছাড়তে পারলে বছর শেষে বড় লোকসান গুনতে হবে এবং সংসার চালানোও কঠিন হয়ে পড়বে।
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাগেরহাট জেলায় প্রায় ৫৪ হাজার ৮৪৮টি মৎস্য ঘের রয়েছে। এসব ঘেরে প্রায় ৯৮ কোটি ৬০ লাখ রেণুর চাহিদা থাকলেও স্থানীয় হ্যাচারিগুলো মাত্র ৮ শতাংশের মতো চাহিদা পূরণ করতে পারছে।
ফকিরহাট উপজেলার মৌভূক এলাকার চাষি দীপক চৌধুরী জানান, রেণুর দামও বেড়ে গেছে। আগের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দামে রেণু বিক্রি হলেও চাহিদা অনুযায়ী পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে চাষি আহাদ শেখ বলেন, বড় পরিসরের ঘের থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় রেণু সংগ্রহ করতে পারছেন না। তাঁর অভিযোগ, হ্যাচারির উৎপাদন কম এবং সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে বিকল্প উৎস থেকেও রেণু সংগ্রহ করা যাচ্ছে না।
রেণু আড়তদার সালাম শেখ জানান, জেলায় প্রায় ৬০টি রেণু আড়ত থাকলেও সরবরাহ অপ্রতুল। হ্যাচারির উৎপাদন চাহিদার তুলনায় অনেক কম হওয়ায় বাইরে থেকে রেণুর ওপর নির্ভর করতে হয়, যা বর্তমানে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, নদী ও সমুদ্র থেকে রেণু আহরণ নিষিদ্ধ থাকায় অবৈধ রেণু প্রবেশও বন্ধ করা হচ্ছে। এতে রোগবালাইয়ের ঝুঁকি কমবে। একই সঙ্গে খুলনায় নতুন হ্যাচারি স্থাপনের কাজ চলছে, যা চালু হলে ভবিষ্যতে রেণু সংকট অনেকটা কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :