দশানী-রামপাল-মোংলা সড়কে চরম দুর্ভোগ, সংস্কারের অপেক্ষায় লাখো মানুষ


বাগেরহাট প্রতিনিধি, নূরুল হুদা প্রকাশের সময় : জুন ২৮, ২০২৬, ৪:৫৩ অপরাহ্ণ
দশানী-রামপাল-মোংলা সড়কে চরম দুর্ভোগ, সংস্কারের অপেক্ষায় লাখো মানুষ

বাগেরহাটের দশানী-রামপাল-মোংলা আঞ্চলিক মহাসড়কের বেহাল অবস্থার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এ পথে চলাচলকারী হাজারো মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের প্রশস্তকরণ ও সংস্কারকাজ বন্ধ থাকায় খানাখন্দ, ধুলাবালি, কাদা এবং অর্ধনির্মিত সেতু-কালভার্টের কারণে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যানবাহন ও পথচারীদের।

বাগেরহাট সদর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা ফয়সাল শেখ বলেন, প্রতিদিনই রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এখন আর ঘর থেকে বের হতে চান না। কখনো ট্রাক উল্টে যায়, কখনো ইজিবাইকের চাকা ভেঙে যায়। এমন দুর্ভোগের শেষ কবে হবে, তা কেউ জানেন না বলেও আক্ষেপ করেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, দশানী থেকে কাশিমপুর পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও ভাঙাচোরা অংশে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। মির্জাপুর এলাকায় রাস্তা ধসে একটি ট্রাক আটকে পড়ায় উদ্ধারকাজ চলছিল। ঝুঁকি নিয়ে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও অন্যান্য ছোট যানবাহন চলাচল করছে। কোথাও কোথাও স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে ইট বিছিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন।

কাড়াপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী রানা আকুঞ্জি বলেন, অতিরিক্ত ধুলাবালির কারণে দোকান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবহন এই সড়কে আসতে চায় না। ফলে আগের তুলনায় দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে পণ্য আনতে হচ্ছে, যা ব্যবসার খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে।

অটোরিকশাচালক আরিফ হাসান জানান, রাস্তার খোয়া ও গর্তের কারণে প্রায়ই গাড়ির টায়ার, টিউব ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। আয়-রোজগারের বড় অংশই গাড়ি মেরামতে ব্যয় করতে হচ্ছে।

শিক্ষার্থী ইমন শেখ বলেন, অর্ধনির্মিত কালভার্ট ও কাদাপানির কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বৃষ্টির দিনে ভাড়া বেড়ে যায়, আর সন্ধ্যার পর অনেক চালক এ পথে চলতে চান না।

মোটরসাইকেল চালক সৌরভ সাহা বলেন, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চলাচল করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাস্তার অতিরিক্ত ঝাঁকুনির কারণে নানা ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা সবসময় থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দা তানজীম আহমেদ বলেন, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে মানুষ ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে। জেলার মধ্যে এমন খারাপ সড়ক আর নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৩৩ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার দীর্ঘ দশানী-রামপাল-মোংলা আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রশস্তকরণ, সংস্কার ও উন্নয়নকাজ চারটি প্যাকেজে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রায় ৪৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটিতে আটটি সেতু ও ২১টি কালভার্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রথম প্যাকেজের কাজের দায়িত্ব পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহাবুব ব্রাদার্স নির্ধারিত সময়েও কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ায় গত ২২ মে তাদের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। অন্য তিনটি প্যাকেজের আওতায় গিলাতলা বাজার থেকে রামপাল হয়ে মোংলা পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। নতুন করে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে দ্রুত সড়কের সংস্কার ও প্রশস্তকরণের কাজ শুরু করা হবে।