নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ার লক্ষ্যে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু


চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, মারুফ প্রকাশের সময় : জুলাই ২৫, ২০২৬, ৩:০৩ অপরাহ্ণ
নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ার লক্ষ্যে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু

‘পরিচ্ছন্ন শহর, সবুজ নগর; প্রফুল্ল মন, সুস্থ জীবন’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে চট্টগ্রামকে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক জেলায় রূপান্তরের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল থেকে চট্টগ্রাম জেলার ৩ হাজার ৩০০-এর বেশি সরকারি ভবনের ছাদ ও আঙিনায় একযোগে এ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করা হয়।

সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালির মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। র‍্যালিটি সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ ঘুরে কাজির দেউড়ি, চট্টগ্রাম অফিসার্স ক্লাব ও রেডিসন ব্লু হয়ে পুনরায় সার্কিট হাউজে এসে শেষ হয়। পরে কোর্ট হিলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আঙিনা, আইনজীবী ভবন এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছাদ পরিষ্কারের মধ্য দিয়ে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়।

উদ্বোধনী কর্মসূচিতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি (অতিরিক্ত আইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. মনিরুজ্জামান, সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এবং পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম (বিপিএম)।

এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মাসব্যাপী এ অভিযানের আওতায় জেলার ১৩১টি দপ্তরের ৪১৬টি ভবন, ৮টি আবাসিক এলাকার ১০৮টি ভবন, উপজেলা পর্যায়ের ৪০৬টি ভবন এবং ২ হাজার ২৯৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, অভিযানের অংশ হিসেবে প্রতিদিনের বর্জ্য অপসারণের হিসাব সংরক্ষণ এবং পরিচ্ছন্নতার আগের ও পরের অবস্থা নথিভুক্ত করা হচ্ছে। এ কার্যক্রম তদারকির জন্য বিশেষ মনিটরিং টিম কাজ করছে।

তিনি বলেন, সুস্থ শরীর ও সুস্থ মনের জন্য প্রয়োজন পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকে সাময়িক কর্মসূচি নয়, বরং স্থায়ী অভ্যাসে পরিণত করাই জেলা প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরিচ্ছন্নতা অভিযান সফল করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো মাসজুড়ে কঠোর তদারকি ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে।