
কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সৃষ্ট সাময়িক সংকট দ্রুত সমাধান হবে এবং অচিরেই গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তিনি বলেছেন, গ্যাসের চাপ আগের মতো স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা, বাসাবাড়ি ও সিএনজি স্টেশনগুলোতে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে যশোরের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় গ্যাস গ্রিডে কারিগরি সমস্যার কারণে সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং সরকার সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, দেশের দুটি ভাসমান সংরক্ষণ ও গ্যাসে রূপান্তর ইউনিটের মাধ্যমে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। এই গ্যাসের ওপর নির্ভর করেই দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা সচল রাখা এবং বাসাবাড়ির রান্নার চাহিদা পূরণ করা হয়।
তিনি বলেন, বর্তমানে একটি ভাসমান সংরক্ষণ ও গ্যাসে রূপান্তর ইউনিটে কারিগরি সমস্যা দেখা দেওয়ায় সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। এটি দ্রুত মেরামতের জন্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও পেট্রোবাংলা যৌথভাবে কাজ করছে। জ্বালানি বিভাগ পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদারকি করছে।
সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব ও অপতথ্য নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিপক্ষকে বিব্রত করতে একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। এর মূল কারণ হিসেবে তিনি নৈতিক মূল্যবোধের ঘাটতিকে দায়ী করেন।
তিনি বলেন, অপপ্রচার প্রতিরোধে সমাজে নৈতিক শিক্ষার চর্চা বাড়াতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের নৈতিক মূল্যবোধ শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাসও গড়ে তুলতে হবে, যাতে গুজব ও অপতথ্যের নেতিবাচক প্রভাব থেকে সমাজকে রক্ষা করা যায়।
আপনার মতামত লিখুন :