লালমনিরহাটে ড্রেন দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ: জলাবদ্ধতার আশঙ্কায় এলাকাবাসী


​লালমনিরহাট প্রতিনিধি: ফারুক সূর্য প্রকাশের সময় : জুলাই ২০, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
লালমনিরহাটে ড্রেন দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ: জলাবদ্ধতার আশঙ্কায় এলাকাবাসী

লালমনিরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের থানারোড এলাকায় একটি সচল ড্রেনের ওপর অবৈধভাবে বহুতল স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছরের পুরনো এই ড্রেনটি বন্ধ হয়ে গেলে পুরো এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্মাণকাজ বন্ধ এবং ড্রেনটি সুরক্ষার দাবিতে পৌর প্রশাসক বরাবর গণস্বাক্ষরিত একটি লিখিত আবেদন দিয়েছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, থানারোড এলাকার বাসিন্দা মৃত নুরুজ্জামান খন্দকারের ছেলে রেজওয়ান খন্দকার বিপ্লব কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন ছাড়াই পৌরসভার ড্রেনের ওপর স্থাপনা নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণকাজের কারণে ড্রেনের স্বাভাবিক পানি চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পথও বন্ধ হয়ে যাবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ড্রেনটি শ্যামল চন্দ্র সরকারের বাড়ির পূর্ব দিক থেকে শুরু হয়ে জেলা জাসদ কার্যালয়ের পেছন দিয়ে প্রধান ড্রেনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এটি এলাকার পানি নিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, ড্রেনের ওপর দেয়াল ও স্থাপনা নির্মাণ করা হলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি উপচে আশপাশের বাড়িঘরে ঢুকে পড়তে পারে। এতে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে।

ভুক্তভোগী প্রতিবেশী ও সমাজকর্মী গোলাম ফারুক রিজু বলেন, “এই ড্রেনটি প্রায় তিন দশক ধরে এলাকার পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম। সরকারি ও পৌরসভার নিয়ম অমান্য করে ড্রেনের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা একাধিকবার অনুরোধ করলেও নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়নি। ড্রেনটি বন্ধ হয়ে গেলে পুরো এলাকার বসতবাড়িতে পানি উঠবে।” তিনি আরও বলেন, দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধ এবং ড্রেনটি রক্ষার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানানো হয়েছে।

এলাকাবাসীর পক্ষে মো. গোলাম ফারুক, আনিস, মো. আশরাফুল আলম, কুঠি, প্রদ্যুৎ পাল, মোহাম্মদ নূরনবী মন্ডলসহ বেশ কয়েকজন বাসিন্দা গণআবেদনে স্বাক্ষর করেছেন। এ বিষয়ে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দ্রুত পৌরসভার প্রকৌশল ও নকশা বিভাগের মাধ্যমে সরেজমিন তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।