সংস্কারের কয়েক মাসেই বেহাল রামগতি-চেওয়াখালী সড়ক, ভোগান্তিতে জনসাধারণ


স্টাফ রিপোর্টার,আল-আমিন প্রকাশের সময় : জুলাই ২৮, ২০২৬, ৫:১১ অপরাহ্ণ
সংস্কারের কয়েক মাসেই বেহাল রামগতি-চেওয়াখালী সড়ক, ভোগান্তিতে জনসাধারণ

প্রায় ৫ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কারের কয়েক মাস না পেরোতেই আবারও বেহাল হয়ে পড়েছে লক্ষ্মীপুরের রামগতি-চেওয়াখালী আঞ্চলিক সড়কের রামগতি থেকে আজাদনগর সেতু পর্যন্ত অংশ। বর্ষার বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী, যানবাহনের চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। নিম্নমানের নির্মাণকাজ এবং অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলকে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ১২ দশমিক ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ রামগতি-চেওয়াখালী সড়কটি দুই ধাপে সংস্কার করা হয়। প্রথম ধাপে ২০২২-২৩ অর্থবছরে রামগতি বাজার থেকে সৈয়দ মৌলভীবাজার পর্যন্ত ৮ দশমিক ১ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে ব্যয় হয় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। দ্বিতীয় ধাপে সৈয়দ মৌলভীবাজার থেকে চেওয়াখালী সেতু পর্যন্ত ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে ব্যয় করা হয় ৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বুঝিয়ে দেয়।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, রামগতি কলেজ রোড, মনু মার্কেট, মুন্সিরহাট, বান্দেরহাট, গুচ্ছগ্রাম বাজার এবং আজাদনগর সেতুসংলগ্ন এলাকাসহ অন্তত ১৫ থেকে ২০টি স্থানে সড়কের কার্পেটিং উঠে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

সড়কের এমন অবস্থার কারণে রামগতি থেকে নোয়াখালীর সোনাপুর যেতে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগছে। আগে যেখানে প্রায় ৪০ মিনিটে যাতায়াত করা যেত, সেখানে বর্তমানে বিকল্প পথ ব্যবহার করে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। একই সঙ্গে বেড়েছে যাতায়াত ব্যয়ও।

রামগতি বাজারের ব্যবসায়ী বিজয় মাহমুদ মামুন বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কারের কয়েক মাসের মধ্যেই সড়কের এমন অবস্থা হতাশাজনক। দ্রুত মেরামত করা না হলে পুরো সড়কই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।

বড়খেরী ইউনিয়নের বাসিন্দা মিজানুর রহমানের অভিযোগ, সড়কের ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি ওজনের ইটবোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে পিচ উঠে যাচ্ছে। চর আফজল এলাকার বাসিন্দা মো. সাবিদ বলেন, ১৪ থেকে ১৫ টনের বেশি ওজনের যান চলাচলের উপযোগী নয় এ সড়ক। অথচ প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ টন ওজনের অসংখ্য ইটবোঝাই ট্রাক চলাচল করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নাহিদ, আলম, ছিদ্দিক, নুরুল করিম রাছেল, মোটরসাইকেলচালক দেলোয়ার ও সবুজ, সিএনজিচালক সুমন ও মিজান এবং অটোরিকশাচালক মো. রাসেল জানান, বড় বড় গর্তের কারণে বাধ্য হয়ে ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সময় ও জ্বালানি—দুইয়েরই অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী মো. ইউনুস বলেন, কাজ শেষ হওয়ার আগেই অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচল শুরু হয়। বিশেষ করে ৩৩টি ইটভাটার ইটবোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে বিভিন্ন স্থানে ফাটল সৃষ্টি হয়ে কার্পেটিং উঠে গেছে। কয়েক দফা মেরামত করা হলেও ভারী যান নিয়ন্ত্রণ না হলে সড়ক টেকসই হবে না।

রামগতি উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী স্নেহাল রায় বলেন, গ্রামীণ সড়কের সক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি ওজনের ট্রাক চলাচলের কারণে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।