দেশে ফিরতে চান ২৯ দিন কাঁচা মাছ খেয়ে বেঁচে থাকা শ্রীলঙ্কান বাবা-ছেলে


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ২৭, ২০২৬, ৯:৪৮ অপরাহ্ণ
দেশে ফিরতে চান ২৯ দিন কাঁচা মাছ খেয়ে বেঁচে থাকা শ্রীলঙ্কান বাবা-ছেলে

কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূলসংলগ্ন পশ্চিম বঙ্গোপসাগর থেকে উদ্ধার হওয়া শ্রীলঙ্কার বাবা-ছেলেকে আদালতের নির্দেশে ঢাকার মিরপুর-১ এলাকায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে শ্রীলঙ্কার দূতাবাস ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে তাদের নিজ দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে।

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানান, উদ্ধার হওয়া দুই শ্রীলঙ্কান নাগরিক বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন। আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে তাদের ঢাকার সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হবে। এরই মধ্যে বিষয়টি শ্রীলঙ্কার দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার (২৪ জুলাই) মহেশখালীর স্থানীয় জেলেরা পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসতে থাকা একটি ছোট ট্রলার থেকে দুই শ্রীলঙ্কান জেলেকে উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন এস. এইচ. চামিন্দা ও তার ছেলে সাউন্ডা হান্নাদিগিপিয়াওয়াটিং। তারা শ্রীলঙ্কার ডেভিনুওয়ারা এলাকার বাসিন্দা।

উদ্ধার হওয়া দুই জেলে জানান, তারা টানা ৩৬ দিন সাগরে ভেসেছিলেন। এর মধ্যে প্রায় ২৯ দিন কাঁচা মাছ খেয়ে জীবন ধারণ করতে হয়েছে তাদের। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩৬ দিন আগে চার জেলে মাছ ধরতে সমুদ্রে যান। একপর্যায়ে বৈরী আবহাওয়ার কারণে তাদের ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। পরে অন্য দুটি নৌযানের সহায়তায় দুই জেলে উদ্ধার হলেও নিজেদের ট্রলার ছেড়ে যেতে রাজি হননি বাবা-ছেলে। ফলে তারা ট্রলারেই থেকে যান।

এ সময় মিয়ানমারের কিছু ব্যক্তি তাদের ট্রলারে উঠে দুরবিন, ক্যামেরাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তারা। পরে সাগরের স্রোতে ভাসতে ভাসতে ট্রলারটি বঙ্গোপসাগর পেরিয়ে মহেশখালীর উপকূলে পৌঁছায়। উদ্ধারকারী ট্রলারের মালিক জিয়াউর রহমান জানান, গভীর সমুদ্রে ভাসমান ট্রলারটি দেখতে পেয়ে কাছে গেলে দুই জেলে করজোড়ে সাহায্য চান। পরে মানবিক বিবেচনায় তাদের উদ্ধার করে মহেশখালী নিয়ে আসা হয়।

পুলিশ জানায়, ভাষাগত সমস্যার কারণে ইশারার মাধ্যমে কথা বলে দুই জেলে দ্রুত শ্রীলঙ্কায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তারা নিজেদের ট্রলারটিও সঙ্গে নিতে চান। তবে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ছোট ওই ট্রলারে করে মহেশখালী থেকে শ্রীলঙ্কা যাত্রা করা নিরাপদ নয়। তাই সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রথমে তাদের ঢাকায় নেওয়া হবে। এরপর শ্রীলঙ্কার দূতাবাসের সহযোগিতায় নিরাপদে নিজ দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে।