শেখ হাসিনা ও বেনজীরের নামে নতুন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ২৬, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
শেখ হাসিনা ও বেনজীরের নামে নতুন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধেও একই আদেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। একরামুল হক হত্যা মামলায় শেখ হাসিনা ও বেনজীর আহমেদসহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি তিন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তিনি মামলার অভিযোগ তুলে ধরে ফরমাল চার্জ গ্রহণের আবেদন জানান। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তার আসামিদের হাজিরের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৫ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মামলায় আসামি করা হয়েছে— ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, মেজর রুহুল আমিন, সেনা কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব, সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি এবং সেনা কর্মকর্তা আশিকুর রহমান। এদের মধ্যে কয়েকজন অন্য মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন একরামুল হক। তিনি টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।

একরামুল হক হত্যার পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা একটি অডিও রেকর্ড দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। ওই ঘটনায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে এবং দেশ-বিদেশে এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। মামলাটি পরবর্তীতে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন হয়।