কঙ্গোতে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ইবোলা, আক্রান্ত ৩ হাজার ছাড়াল


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ২৬, ২০২৬, ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ
কঙ্গোতে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ইবোলা, আক্রান্ত ৩ হাজার ছাড়াল

মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সর্বশেষ সরকারি হিসাবে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৫ জনে। এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৩৫৪ জন। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই সংক্রমণকে আফ্রিকার সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) প্রকাশিত কঙ্গো সরকারের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আফ্রিকা রোগ নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি মহাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত বিস্তার লাভ করা ইবোলা মহামারিগুলোর একটি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন কর্তৃপক্ষের নজরদারির বাইরে নীরবে ছড়িয়ে পড়ার পর গত ১৫ মে কঙ্গো সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেয়। এরপর থেকে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, যা দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, এবারের সংক্রমণের জন্য দায়ী ইবোলা ভাইরাসের বিরল বান্ডিবুগিও প্রজাতি। এখন পর্যন্ত এই নির্দিষ্ট প্রজাতির বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো অনুমোদিত টিকা বা ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি। তবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং কার্যকর চিকিৎসা উদ্ভাবনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক গবেষকদের উদ্যোগে মানবদেহে নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, এসব গবেষণা ভবিষ্যতে রোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এদিকে কঙ্গোতে ইবোলা নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা শুরু থেকেই নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা ও তহবিলের ঘাটতির পাশাপাশি দেশটির পূর্বাঞ্চলের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি স্বাস্থ্যসেবাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা এবং চলমান নিরাপত্তাহীনতার কারণে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্ত এলাকাগুলোতে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ও রোগী শনাক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন না।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত আক্রান্তদের শনাক্ত করা, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণে রাখা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। ফলে ইবোলার বিস্তার রোধে কঙ্গোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।