বাংলাদেশে বছরে পানিতে ডুবে মারা যান ১৮ হাজার মানুষ


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ২৫, ২০২৬, ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশে বছরে পানিতে ডুবে মারা যান ১৮ হাজার মানুষ

আজ ২৫ জুলাই পালিত হচ্ছে বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস। পানিতে ডুবে মৃত্যুর মতো প্রতিরোধযোগ্য দুর্ঘটনা কমানো, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্য নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২১ সাল থেকে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, পানিতে ডুবে মৃত্যু বর্তমানে বিশ্বজুড়ে একটি ‘নীরব মহামারি’ হিসেবে দেখা দিয়েছে। প্রতিবছর বিশ্বে ৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ পানিতে ডুবে প্রাণ হারান। এর প্রায় ৯০ শতাংশ মৃত্যুই ঘটে বাংলাদেশসহ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের অকালমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই দুর্ঘটনা।

বাংলাদেশেও পানিতে ডুবে মৃত্যুর চিত্র উদ্বেগজনক। দেশে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৮ হাজার মানুষ পানিতে ডুবে মারা যান। এর মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পানিতে ডুবে মৃত্যুর প্রায় ৯০ শতাংশই প্রতিরোধযোগ্য। প্রয়োজনীয় সচেতনতা, নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা এবং সঠিক শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের মৃত্যু অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহ, আকস্মিক বন্যা, অতিবৃষ্টি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়ছে। এর ফলে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবেশের তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার গড়ে ৭ দশমিক ২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

দিবসটি উপলক্ষে ঘানার রাজধানী আক্রায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব সম্মেলনে ডব্লিউএইচও পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে ‘প্রটেক্ট’ নামে সাতটি প্রমাণভিত্তিক কৌশলসম্বলিত নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, এটি শুধু জনস্বাস্থ্যের সমস্যা নয়, বরং সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বড় বাধা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের পানির কাছে একা না যেতে দেওয়া, নিরাপদ স্থানে সাঁতার শেখানো, নদী-খাল-পুকুরে সতর্কতা অবলম্বন, নৌযাত্রায় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার এবং স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো জরুরি।

ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেছেন, পানিতে ডুবে যাওয়া প্রতিটি মৃত্যুই একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা, অথচ এর অধিকাংশই প্রতিরোধ করা সম্ভব। শিশুদের সাঁতার শেখানো, নৌযান নিরাপদ করা এবং বন্যা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার মাধ্যমে এ সংকট মোকাবিলা করা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রাথমিক শিক্ষার অংশ হিসেবে সাঁতার শেখানো এবং নিরাপদ জলাধার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।