
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে ভয়াবহ গাড়িবোমা হামলায় সেনা, পুলিশ সদস্য ও হামলাকারীসহ ২৭ জন নিহত হয়েছেন। আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় চালানো এ হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের ট্যাংক জেলার একটি নিরাপত্তা চৌকিতে এ হামলা চালানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাতের অন্ধকারে হামলাকারীরা প্রথমে নিরাপত্তা চৌকিতে প্রবেশের চেষ্টা করে। পরে বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি চৌকির সীমানা দেয়ালে আঘাত করলে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ বেশ কয়েকজন নিহত হন।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১২ জন সেনাসদস্য, দুজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং একজন বন কর্মকর্তা রয়েছেন। এ ছাড়া হামলায় অংশ নেওয়া ১২ জন হামলাকারীও নিহত হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে ওই অঞ্চলে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা রয়েছে। পাকিস্তানের নিষিদ্ধ ঘোষিত সশস্ত্র সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) দাবি করেছে, তাদের চারজন আত্মঘাতী হামলাকারী এ হামলায় অংশ নিয়েছিল।
হামলার সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আশপাশের এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ। খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে চলতি বছরে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর আগে একই প্রদেশের বান্নু জেলায় পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে একাধিক হামলা ও আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কারণে পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ২০২৪ সালে ১ হাজার ৬২০ জন থেকে বেড়ে পরবর্তী সময়ে ২ হাজার ৩৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর পিস স্টাডিজ জানিয়েছে, একই সময়ে দেশজুড়ে হামলার সংখ্যাও প্রায় ৩৪ শতাংশ বেড়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :