দিল্লিতে আবারও উত্তেজনা, পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ালশেল নিক্ষেপ


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ২৫, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
দিল্লিতে আবারও উত্তেজনা, পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ালশেল নিক্ষেপ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর আবারও লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর শনিবার (২৫ জুলাই) এ ঘটনা ঘটে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালে প্রথমে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। তবে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর পাথর ছুড়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এর আগে শনিবার দুপুরের দিকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তার পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত ৩৬ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল ককরোচ জনতা পার্টি। এর আগে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে।

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছিল, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা কোনো আলোচনায় বসবে না। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান নিট পরীক্ষায় অনিয়মের দায় নিজের কাঁধে নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষাই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য। সরকার ইতোমধ্যে তদন্তের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাকে দিয়েছে এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছেন। সরকারি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনার পর আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মুখে সরকারের ওপর চাপ বাড়তে থাকায় ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছে দেশটির রাজনৈতিক মহল। তবে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে।