
ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর-মন্তরে আবারও অবস্থান নিয়েছে ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সোমবার পুলিশের অভিযানের পর মঙ্গলবার ভোর থেকেই সংগঠনটির আহ্বানে বিক্ষোভকারীরা ফের সেখানে জড়ো হতে শুরু করেন। সংগঠনটি জানিয়েছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।
সোমবার পুলিশ যন্তর-মন্তর থেকে আন্দোলনকারীদের মঞ্চ ও তাঁবু সরিয়ে দেয়। এর পরদিন সকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক দিল্লি পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) মোতায়েন করা হয়।
এর আগে সোমবার সিজেপির ডাকা ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লিতে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হাজারো শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনের কাছাকাছি পৌঁছে গেলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। সংঘর্ষে শতাধিক পুলিশ সদস্য এবং ৬০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী আহত হন।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সোমবারের কর্মসূচি থেকে প্রায় ৭০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। সহিংসতা ও ভাঙচুরের অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা উচ্ছৃঙ্খল ও আক্রমণাত্মক আচরণ করেছেন। একাধিকবার সতর্ক করার পরও তারা আইনগত নির্দেশনা মানেননি। তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে এবং এতে অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোমবার থেকেই সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের আলোচনা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা তার বাসভবনে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কারের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো শোনা হয় এবং আন্দোলন প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে সিজেপি তিনটি দাবি তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে— সোনম ওয়াংচুকের নিঃশর্ত মুক্তি ও চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং ২০২৬ সালের নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
জে পি নাড্ডা জানান, সিজেপির পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে এবং দাবিগুলো যথাযথ পর্যায়ে বিবেচনা করা হবে। তবে বৈঠকের পর সিজেপি জানায়, এখনো কোনো নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি। তাই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।
অন্যদিকে সোনম ওয়াংচুকও জানিয়েছেন, তরুণ আন্দোলনকারীদের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ না দেওয়া পর্যন্ত অথবা তারা হাসপাতালে এসে তার সঙ্গে দেখা না করা পর্যন্ত তিনি অনশন চালিয়ে যাবেন। ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার স্বামীর লেখা একটি বার্তা প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর কঠোর আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে অনশন অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানান।
আপনার মতামত লিখুন :