
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ৯ নম্বর রূপপাত ইউনিয়নের কদমী যুব সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের জমকালো ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। খেলাকে ঘিরে হাজারো দর্শকের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মাঠজুড়ে সৃষ্টি হয় প্রাণবন্ত ও আনন্দঘন পরিবেশ। স্থানীয়দের মতে, এমন আয়োজন শুধু বিনোদনের ক্ষেত্রেই নয়, বরং যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে সুস্থ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ফাইনাল ম্যাচ শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ৯ নম্বর রূপপাত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. মতিনুল ইসলাম (লিয়াকত মিয়া) বিজয়ী দলের হাতে একটি আকর্ষণীয় ফ্রিজ এবং রানার্সআপ দলের হাতে ৩২ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন তুলে দেন। ব্যতিক্রমী ও মূল্যবান পুরস্কারের কারণে টুর্নামেন্টটি স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মতিনুল ইসলাম (লিয়াকত মিয়া) বলেন, “খেলাধুলা একটি জাতিকে সুস্থ, সচেতন ও মানবিক করে তোলে। যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে নিয়মিত ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কোনো বিকল্প নেই। কদমী যুব সমাজের এই উদ্যোগ অন্যদের জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “যুবকরাই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাদের প্রতিভা বিকাশ, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তুলতে এ ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভবিষ্যতেও এলাকার শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে আমি সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সহস্রাইল বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. চুন্নু বিশ্বাস, আলফাডাঙ্গা ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক মো. মাহিদুল ইসলাম এবং যদুনন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম। বক্তারা বলেন, নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজন তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস, দর্শকদের করতালি এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আনন্দঘন পরিবেশে পুরো মাঠ মুখরিত হয়ে ওঠে। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হলে গ্রামীণ পর্যায়ে খেলাধুলার প্রতি তরুণদের আগ্রহ আরও বাড়বে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
আয়োজক কদমী যুব সমাজ জানায়, তরুণদের মেধা ও প্রতিভার বিকাশ, পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যেই এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও আরও বৃহৎ পরিসরে এমন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে বলে তারা জানান। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের সুপরিকল্পিত ক্রীড়া আয়োজন গ্রামীণ সমাজে ঐক্য, সম্প্রীতি ও ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আপনার মতামত লিখুন :