
ভোলার চরফ্যাশনে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে নকলের সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগে হামলা, ভাঙচুর ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে চরফ্যাশনের ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা শেষে এ ঘটনা ঘটে।
কেন্দ্র পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষার সময় অসদুপায় অবলম্বনের সুযোগ না পাওয়ায় একদল পরীক্ষার্থী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরীক্ষা শেষে দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে প্রায় দুই শতাধিক পরীক্ষার্থী কলেজের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে এবং বিভিন্ন স্লোগান দেয়। একপর্যায়ে তারা কলেজ প্রাঙ্গণে ডিম নিক্ষেপ করে।
পরে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ কলেজের উত্তর-পশ্চিম পাশের দুটি গেট ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। তারা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের জানালার কাচসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায়। এতে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির কর্মকর্তারা জানান, পরীক্ষার হলে নকল বা অন্য কোনো অসদুপায় অবলম্বনের সুযোগ না পেয়ে কিছু পরীক্ষার্থী পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিক্ষুব্ধদের ছত্রভঙ্গ করতে কয়েক রাউন্ড টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) তত্ত্বাবধানে পরীক্ষার উত্তরপত্র নিরাপত্তার সঙ্গে ডাকঘরে পাঠানো হয়। তবে কয়েকজন পরীক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, আইসিটি বিষয়ের প্রশ্ন তুলনামূলক কঠিন হওয়ায় অনেক পরীক্ষার্থী মানসিক চাপে পড়ে। পাশাপাশি পরীক্ষা হলে কক্ষ পরিদর্শকদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ থেকেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, প্রশ্ন কঠিন হওয়া এবং শিক্ষকদের সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগে কিছু পরীক্ষার্থী অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বর্তমানে পরিবেশ স্বাভাবিক করেছে।
চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। বিক্ষুব্ধদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্র ও আশপাশের এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :