বন্যা ও পাহাড় ধসে মৃত্যু বেড়ে ৪৪, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখের বেশি


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ১১, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
বন্যা ও পাহাড় ধসে মৃত্যু বেড়ে ৪৪, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখের বেশি

দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা ও পাহাড় ধসে ৪৪ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট এ দুর্যোগে সাত জেলার ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ—এই সাত জেলার ৫৮টি উপজেলা, ৩৮৬টি ইউনিয়ন এবং ১১টি পৌরসভা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যা ও পাহাড় ধসে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কক্সবাজার জেলায়। সেখানে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১০ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা নাগরিক। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৪ জন।

চট্টগ্রাম জেলায় বন্যা ও দেয়াল ধসের ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১২ জন। বান্দরবানে ঢলের পানিতে ভেসে ও পাহাড় ধসে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন ২ জন। রাঙামাটিতে মারা গেছেন ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। মাঠপর্যায়ের হিসাবে, সবচেয়ে বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন চট্টগ্রাম জেলায়। জেলার ১৬টি উপজেলায় জলাবদ্ধতার কারণে ৭ লাখ ৫৯ হাজার ৫৩০ জন মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। সেখানে পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি।

এরপর কক্সবাজারে ১০টি উপজেলার ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭ জন মানুষ বন্যাকবলিত হয়েছেন এবং ৩৯ হাজার ৫০৬টি পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। এ ছাড়া খাগড়াছড়ির ৯ উপজেলায় ২৭ হাজার ২২০ জন, রাঙামাটির ৯ উপজেলায় ৩ হাজার ৫২৪ জন, বান্দরবানের ৭ উপজেলায় ৮ হাজার ৩৫০ জন, মৌলভীবাজারের চার উপজেলায় ৩৮ হাজার ১৭২ জন এবং হবিগঞ্জের তিন উপজেলায় ২৮ হাজার ১৪০ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তবে দুর্গম এলাকার অনেক মানুষ এখনো পানিবন্দি অবস্থায় নিজেদের বসতভিটায় অবস্থান করছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে জরুরি সহায়তা হিসেবে চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত ৭ জুলাই দেশের ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে ৬ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন চাল এবং ৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৭০০ টন চাল ও ৪০ লাখ টাকা, কক্সবাজারে ৪৫০ টন চাল ও ৩০ লাখ টাকা, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানে ৪০০ টন করে চাল এবং ২০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মৌলভীবাজারে ২০০ টন চাল ও ১০ লাখ টাকা এবং হবিগঞ্জে ১০০ টন চাল ও ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার, চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ শুরু করলেও অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সহায়তা পৌঁছাতে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ কর্মসূচি, জরুরি সাড়াদান সমন্বয় অধিশাখার যুগ্মসচিব সেখ ফরিদ আহমেদ বলেন, বন্যাকবলিত জেলাগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এনজিও কর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ চলছে। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সহযোগিতায় দুর্গত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।