
দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সচল রাখতে সাত দফা জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। শুক্রবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি ভার্চুয়াল সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বন্যাকবলিত সব উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ফোকাল পারসন নিয়োগ দিতে হবে। এসব কর্মকর্তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখবেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার কাছে তাদের মোবাইল নম্বর সরবরাহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বন্যাদুর্গত মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আক্রান্ত প্রতিটি উপজেলা ও জেলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেডিকেল টিম গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি ওষুধ, ওআরএস, স্যালাইন এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
বন্যাকবলিত এলাকায় সাপের কামড়ের ঝুঁকি বিবেচনায় পর্যাপ্ত অ্যান্টি-স্নেক ভেনম সংরক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে পার্শ্ববর্তী স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তা সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সভায় গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রয়োজন হলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রসূতিদের হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে এবং এ কাজে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বন্যাকবলিত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে জন্য সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ ও অন্যান্য কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজন হলে কর্মীদের ছুটি বাতিলসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য নেওয়া স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সম্পর্কে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে অবহিত করতে হবে। আগামী ১২ জুলাই বন্যা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিভাগের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে জরুরি প্রেস ব্রিফিং আয়োজনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন এবং বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকদের। সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন), অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন), পরিচালক (প্রশাসন), বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক এবং দেশের সব সিভিল সার্জন অংশ নেন।
আপনার মতামত লিখুন :