ব্রাজিল নাকি আর্জেন্টিনা? স্বাধীন বাংলাদেশকে আগে স্বীকৃতি দেয় যে দেশ


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ১, ২০২৬, ৩:২৪ অপরাহ্ণ
ব্রাজিল নাকি আর্জেন্টিনা? স্বাধীন বাংলাদেশকে আগে স্বীকৃতি দেয় যে দেশ

ফুটবলপ্রেমী বাংলাদেশের মানুষের কাছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা শুধু দুটি দেশের নাম নয়, বরং আবেগ ও ভালোবাসার প্রতীক। বিশ্বকাপ এলেই এই দুই দলকে ঘিরে সমর্থকদের উন্মাদনা, তর্ক-বিতর্ক ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। তবে ফুটবলের মাঠের বাইরেও স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার এই দুই দেশের।

মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় ব্রাজিল। অন্যদিকে একই বছরের ২৬ অক্টোবর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় আর্জেন্টিনা। অর্থাৎ দক্ষিণ আমেরিকার এই দুই দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে আগে স্বীকৃতি দেওয়া দেশ ছিল ব্রাজিল।

বাংলাদেশে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ ফুটবল। বিশ্বকাপ কিংবা বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট এলেই লাখো বাংলাদেশি সমর্থক গভীর রাত জেগে টেলিভিশনের পর্দায় প্রিয় দলের খেলা উপভোগ করেন। নেইমার, মেসি কিংবা তাদের সতীর্থদের ঘিরে তৈরি হয়েছে এক ধরনের আবেগঘন সম্পর্ক।

ভৌগোলিক দূরত্ব অনেক হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে বাংলাদেশি সমর্থকদের সঙ্গে দুই দেশের ফুটবলারদেরও এক ধরনের যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। ব্রাজিলের ক্যাসেমিরো কিংবা আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘এমি’ মার্টিনেজ বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের সমর্থকদের ভালোবাসা ও সমর্থনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

ফুটবলের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্কেও ব্রাজিলের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি। আর্জেন্টিনার তুলনায় ব্রাজিলে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় আট গুণ বেশি। আমদানির ক্ষেত্রেও ব্রাজিল এগিয়ে রয়েছে। দুই দেশেই বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। গত বছর জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) এক সাইডলাইন বৈঠকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক ও সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশ সফরের আগ্রহের কথাও জানান ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট।

অন্যদিকে, দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশে আবারও দূতাবাস কার্যক্রম শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। ঢাকায় নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূতকেও বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি সমর্থকদের সঙ্গে আর্জেন্টিনার ম্যাচ উপভোগ ও দলের জয় উদযাপনে অংশ নিতে দেখা গেছে।

ফুটবলের আবেগ, ঐতিহাসিক স্বীকৃতি এবং অর্থনৈতিক যোগাযোগ—সব মিলিয়ে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক শুধু খেলার মাঠে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা দুই দেশের জনগণের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।