কালীগঞ্জে পরীক্ষার ফি’ আদায়ের অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন


সাতক্ষীরা ক্রাইম রিপোর্টার, আব্দুর রশিদ প্রকাশের সময় : জুলাই ২৭, ২০২৬, ৮:১৯ অপরাহ্ণ
কালীগঞ্জে পরীক্ষার ফি’ আদায়ের অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ছনকা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমির খসরুর বিরুদ্ধে ৩০ টাকা করে পরীক্ষার ফি আদায়ের অভিযোগের তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয় ভবনে এ তদন্ত কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

গত ১৪ জুলাই ছনকা গ্রামের অভিভাবক সদস্য শেখ আতাউর রহমান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে এ অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার রায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির সদস্য হিসেবে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা যতি শংকর রায়, আবু সেলিম ও আব্দুর রাকিব তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

তদন্তকালে বিদ্যালয়ের উপস্থিত অভিভাবক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সচেতন মহলের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শেখ লুৎফর রহমান ও অভিযোগকারী শেখ আতাউর রহমানের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ, পাল্টাপাল্টি মামলা-মোকদ্দমা এবং ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের বিষয়ও উঠে আসে।

উপস্থিত কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, সরকারি বিধান না থাকলেও প্রধান শিক্ষক আমির খসরু পরীক্ষার ফি বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০ টাকা করে নিয়েছেন। তবে প্রধান শিক্ষক আমির খসরু এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল তৎকালীন এডহক কমিটির সভায় বিদ্যালয়ের স্লিপের অর্থ সংকটের কারণে প্রশ্নপত্র প্রস্তুতের খরচ বাবদ ফি নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হলেও বাস্তবে কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়নি।

বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাকিব বলেন, বিদ্যালয়ের স্লিপের অর্থের সংকট থাকলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি আদায় করা হয়নি। তবে কয়েকজন মহিলা অভিভাবক স্বেচ্ছায় কাউকে না জানিয়ে কিছু টাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রেহানা খাতুন জানান, পরীক্ষার ফি হিসেবে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। তবে কিছু শিক্ষার্থী হ্যান্ড নোট ও ফটোকপি খরচ বাবদ ১০ থেকে ১৫ টাকা করে দিয়েছে। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের কোনো নির্দেশনা ছিল না বলেও তিনি জানান।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শেখ লুৎফর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধের জেরে বিদ্যালয়কে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ছনকা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে এবং এর আগে কোনো অভিভাবক এ ধরনের অভিযোগ করেননি।

ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি ও উজ্জীবনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোস্তাহিদ রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও সুনাম রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কারও গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তবে কোনো ষড়যন্ত্রও মেনে নেওয়া হবে না।

তদন্ত শেষে তদন্ত কর্মকর্তা উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা যতি শংকর রায় ও আবু সেলিম সাংবাদিকদের জানান, তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে। তদন্তে কোনো ধরনের অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হবে না বলেও তারা জানান। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল আশা প্রকাশ করেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হবে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও সুনাম অক্ষুণ্ন থাকবে।