
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বমু বিলছড়ি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। প্লাবিত হয়েছে বহু গ্রাম, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ। এতে শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট।
এমন পরিস্থিতিতে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বমু বিলছড়ি ইউনিয়ন বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুল হক। শনিবার (১১ জুলাই) ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. গিয়াস উদ্দিনের সহযোগিতায় তিনি নিজস্ব অর্থায়নে টানা তৃতীয় দিনের মতো বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করেন।
এদিন বমু পানিস্যাবিল, ফকির ঝিরি, পুকুরিয়াখোলা, ফাদুখোলা, রিজার্ভপাড়া ও নন্দীর বিল এলাকায় পানিবন্দি মানুষের মাঝে চাল, ডাল, তেল, লবণ এবং শুকনো খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। দুর্গম এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন মিজানুল হক। তিনি বন্যাকালে নিরাপদে থাকার পরামর্শ দেন এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও প্রদান করেন।
মিজানুল হক বলেন, “বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্গম এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ত্রাণ বিতরণের চেষ্টা করছি। চলমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত আমার সামর্থ্য অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার বাবা চকরিয়া উপজেলার বৃহত্তর কাকারা ইউনিয়নের একজন জনপ্রতিনিধি ছিলেন এবং জনসেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। আমিও তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করে বমু বিলছড়ি ইউনিয়নের মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকতে চাই। এজন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করছি।”
ত্রাণসামগ্রী পেয়ে উপকারভোগীরা মিজানুল হকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের ভাষ্য, দুর্যোগের শুরু থেকেই তিনি নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন। তারা তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বলেন, এমন মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা করেন।
আপনার মতামত লিখুন :