খামেনির জানাজার মধ্যেই হরমুজে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ৭, ২০২৬, ৩:৫১ অপরাহ্ণ
খামেনির জানাজার মধ্যেই হরমুজে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের জানাজা এবং রাষ্ট্রীয় শোকের মধ্যেই পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের এক প্রতিবেদনে দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, সোমবার (৬ জুলাই) মধ্যরাতে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এ হামলা চালিয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলায় দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এ ঘটনায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রম সংস্থা (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে ওমানের লিমা থেকে প্রায় ৮ নটিক্যাল মাইল পূর্বে দক্ষিণমুখী যাত্রার সময় একটি ট্যাংকারে অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। তবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরানের বিপ্লবী গার্ড সামুদ্রিক রেডিও বার্তায় ওই অঞ্চলের জাহাজগুলোকে সতর্ক করেছিল। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নির্দেশনা অমান্য করলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর মধ্যে একটি কাতার গ্যাসের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান নাকিলাতের মালিকানাধীন ও পরিচালিত এলএনজি ট্যাংকার ‘আল রেকায়াত’। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি জাহাজটির বাম পাশে ইঞ্জিন রুমের ওপরের অংশে আঘাত হানে। হামলার পর ইঞ্জিন রুমে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ধোঁয়া দেখা যায়। তবে জাহাজের সব নাবিক নিরাপদে সরে যেতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির মতো বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুটে এমন হামলার ঘটনা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। তবে হামলার উদ্দেশ্য ও দায় স্বীকারের বিষয়টি নিয়ে এখনো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।