গড়ে উঠছে অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি

নেছারাবাদে ডকইয়ার্ড শিল্পে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত


নেছারাবাদ প্রতিনিধি, ফরিদ আহমেদ প্রকাশের সময় : জুলাই ১, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
নেছারাবাদে ডকইয়ার্ড শিল্পে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা ধীরে ধীরে দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পের একটি সম্ভাবনাময় কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। সন্ধ্যা নদী ও এর শাখা-প্রশাখা ঘেঁষে গড়ে ওঠা ডকইয়ার্ডগুলোতে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের স্টিল বডি নৌযান, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে নতুন গতি এনেছে।

উপজেলার ছারছিনা, নান্দুহার, কালীবাড়ি, বরছাকাঠি, বালিহারী ও মাগুরা গ্রামের আশপাশে প্রায় ২১টি ডকইয়ার্ডে ছোট নৌযান থেকে শুরু করে বড় কার্গো জাহাজ নির্মাণ করা হচ্ছে। ৫০ লাখ টাকার ছোট নৌযান থেকে শুরু করে প্রায় ১০ কোটি টাকার বড় জাহাজও এখানে তৈরি হচ্ছে। ৪০ ফুট থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩০০ ফুট দীর্ঘ জাহাজ নির্মাণের সক্ষমতাও রয়েছে এসব ডকইয়ার্ডে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসব শিল্পকে ঘিরে বছরে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার বাণিজ্য হচ্ছে এবং প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে জাহাজ নির্মাণের জন্য আসছেন।

জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে কেন্দ্র করে এলাকায় গড়ে উঠেছে ওয়ার্কশপ, হার্ডওয়্যার, স্টিল ও ওয়েল্ডিং সামগ্রী এবং রঙের দোকানসহ নানা ধরনের ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। উদ্যোক্তারা জানান, কাঁচামাল আনা হয় ঢাকার পোস্তগোলা, চট্টগ্রামের ভাটিয়ারী ও সীতাকুণ্ড এলাকা ছাড়াও বিদেশ থেকেও কিছু সরঞ্জাম আমদানি করা হয়।

স্থানীয় শ্রমিকরা জানান, একসময় বাইরে থেকে দক্ষ শ্রমিক আনা হলেও এখন স্থানীয়রাই প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে এসব কাজে যুক্ত হচ্ছেন। তবে নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাব, কম মজুরি এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজ নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষও রয়েছে।

এক শ্রমিক বলেন, কাজের সময় সুরক্ষা উপকরণের অভাবে তারা ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। অন্যদিকে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি দক্ষদের ক্ষেত্রে প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং সাধারণ শ্রমিকদের ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে বলে জানা গেছে।

ডকইয়ার্ড সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে নেছারাবাদকে আন্তর্জাতিক মানের জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এতে দেশের ব্লু ইকোনমিতে বড় অবদান রাখার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দত্ত বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পূর্ণ না থাকায় সরকারি সহায়তা প্রক্রিয়ায় কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কাগজপত্র সম্পন্ন হলে এই শিল্পে সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনা আরও সহজ হবে বলেও তিনি জানান।

স্থানীয়দের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি সহযোগিতা পেলে নেছারাবাদের ডকইয়ার্ড শিল্প ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।