দরিদ্রদের জন্য এক লাখ ফ্ল্যাট বানাবে সরকার


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২৮, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
দরিদ্রদের জন্য এক লাখ ফ্ল্যাট বানাবে সরকার

দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) এক লাখ সাশ্রয়ী ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। রাজধানীর কড়াইল বস্তিসহ দেশের ৫৮টি এলাকায় এসব আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য স্থান নির্বাচন করা হয়েছে।

রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।

মন্ত্রী বলেন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) অনুযায়ী প্রকল্পের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে গাজীপুরের টঙ্গীর দত্তপাড়ায় ৯৮ একর জমিতে এবং রাজশাহী, দিনাজপুর, বরিশাল, খুলনা, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন পৌর এলাকার ৩৭টি বস্তিতে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য উন্নত আবাসন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজশাহী, খুলনা ও চট্টগ্রামে চউকের জমিতে ভাড়াভিত্তিক ও সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।

সংসদের একই অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাজমুন নাহারের প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন জানান, পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩-এর শাস্তির বিধান ও জরিমানাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে সংশোধন করা হবে।

নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ দূর করতে সারাদেশে উপকারভোগীদের তথ্য পুনঃযাচাই এবং ভুয়া সুবিধাভোগীদের বাদ দিতে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে গত ১৯ এপ্রিল একটি পুনঃযাচাই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে, ফেনী-2 আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বয়স্ক ভাতা ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ৬২ লাখ উপকারভোগীর জন্য পাঁচ হাজার ২৩৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, আগামী অর্থবছরে ৩০ লাখ বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীকে মাসিক ৭০০ টাকা ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ভাতা ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে ৩৮ লাখ উপকারভোগীর জন্য ৪ হাজার ৫৮৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হবে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সালমান ওমরের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশের ৪৪ জেলার ৫৫টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে তিন ধাপে ৬৯ হাজার ৩৮৭ জন নারীপ্রধান পরিবারের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করা হয়েছে।