
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় মায়ের ওপর অভিমান করে আগাছানাশক (ঘাস মারার বিষ) পান করে ভেরোনিকা ত্রিপুরা নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ভেরোনিকা আলীকদম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার ছুটির দিনে পরিবারের গবাদিপশু চরাতে গিয়ে ভেরোনিকা একটি গরুর গুঁতো খায়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সে গরুটিকে মারধর করে। বিষয়টি জানতে পেরে তার মা তাকে বকাঝকা করেন। এরপর মায়ের কথায় অভিমান করে ঘরে থাকা আগাছানাশক পান করে বলে জানা গেছে।
পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত ভেরোনিকাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে বিষক্রিয়ার কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। রোববার হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। সোমবার তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
ভেরোনিকার অকালমৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও সহপাঠীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
অসতি ত্রিপুরা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নব আরা বেগম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেরোনিকার স্মৃতিচারণ করে লিখেছেন, “মেয়েটি অত্যন্ত শান্ত ও চাপা স্বভাবের ছিল। ক্লাসে কারো সঙ্গে ঝামেলায় জড়াত না। শিক্ষকদের প্রশ্নের উত্তর খুব সংক্ষিপ্তভাবে দিত। কারো প্রতি কোনো অভিযোগ ছিল না তার।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সচেতন মহলের মতে, সন্তানদের মানসিক অবস্থা বোঝার জন্য পরিবারের সদস্যদের আরও যত্নশীল হতে হবে।
তারা আরও বলেন, বাড়িতে থাকা বিষাক্ত কীটনাশক ও আগাছানাশক নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখা জরুরি। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পরিবার ও সমাজের সবাইকে আরও সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।
আপনার মতামত লিখুন :