
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরিচা স্পিডবোট ঘাটে নৈশপ্রহরীর হাত-পা ও মুখ বেঁধে দুটি স্পিডবোটের ইঞ্জিন লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের বিরুদ্ধে। পরে বুধবার (২২ জুলাই) সকালে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটসংলগ্ন পাংশা চ্যানেলের পদ্মা নদী থেকে ইঞ্জিনবিহীন অবস্থায় স্পিডবোট দুটি উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় ও ঘাট সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে আরিচা স্পিডবোট ঘাটের ৪ নম্বর পন্টুনে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় ঘাটে দায়িত্ব পালন করছিলেন নৈশপ্রহরী কোব্বাত আলী (৭০)। অপর নৈশপ্রহরী রমজান (৩৬) রাতের খাবার খেতে ঘাটসংলগ্ন একটি হোটেলে গিয়েছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, পাঁচ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল পায়ে হেঁটে ঘাট এলাকায় প্রবেশ করে। এ সময় তারা একা থাকা নৈশপ্রহরী কোব্বাত আলীকে জিম্মি করে তার হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেয় ডাকাতরা। এরপর বিশেষ কৌশলে দুটি স্পিডবোট চালু করে সেগুলো দক্ষিণ দিকে নিয়ে যায়।
কিছুক্ষণ পর কোব্বাত আলী চিৎকার শুরু করলে বাজার এলাকায় টহলরত পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে স্পিডবোট মালিক ও স্থানীয়রা বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বুধবার সকালে আরিচা ঘাট থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথের মাঝামাঝি পাংশা চ্যানেল এলাকায় পদ্মা নদী থেকে স্পিডবোট দুটি উদ্ধার করা হয়। তবে সেগুলোর ইঞ্জিন খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
স্পিডবোট মালিক উজ্জ্বল ফকির জানান, তার স্পিডবোটের ১১৫ অশ্বশক্তির একটি ইঞ্জিন এবং অপর মালিকের ৮৫ অশ্বশক্তির একটি ইঞ্জিন লুট হয়েছে। এতে দুই মালিকের প্রায় ২২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। শিবালয় থানা ও নৌ-পুলিশ যৌথভাবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :