সরকার সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ২১, ২০২৬, ৯:১০ অপরাহ্ণ
সরকার সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা

ডিপফেক, ভুয়া তথ্য (ডিসইনফরমেশন), মিথ্যাচার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, এসব অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বিশেষ আইনজীবী প্যানেল গঠনের সব প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে সচিবালয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক বিস্তারের ফলে ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার, ভুয়া তথ্য প্রচার, ছবি ও ভিডিও বিকৃত করে প্রকাশ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এসব কর্মকাণ্ড শুধু ব্যক্তির সম্মানহানিই ঘটাচ্ছে না, বরং সামাজিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে।

তিনি বলেন, বিশেষ করে নারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। অনেককে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, অপমান, হুমকি ও মিথ্যা প্রচারণার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এসব অপরাধ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। তথ্য উপদেষ্টা জানান, গঠিতব্য বিশেষ আইনজীবী প্যানেল শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে নয়, প্রয়োজন হলে স্বতঃপ্রণোদিত হয়েও আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে। সরকার যেসব ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে, সেসব ক্ষেত্রেও প্যানেলটি সক্রিয়ভাবে কাজ করবে। এর লক্ষ্য হলো ভুক্তভোগীদের দ্রুত আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকদের সুরক্ষা প্রদান।

তিনি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেউ যদি ডিপফেক, সাইবার বুলিং, অনলাইন হয়রানি বা ভুয়া তথ্যের শিকার হন, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীল হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি। ডা. জাহেদ বলেন, মূলধারার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের আগে সম্পাদকীয় যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ব্যবস্থা নেই। ফলে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বা ছবি শেয়ার না করার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক কার্যক্রমও তুলে ধরেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, ২০ জুলাই পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পাশাপাশি স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানির জন্য ৪০টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০টি গ্যাস কূপ খননের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন চলছে। তিনি আরও জানান, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ‘নিরাপদ খাদ্য প্রবিধানমালা-২০২৬’ জারি করা হয়েছে। এছাড়া আগামী আগস্টের মাঝামাঝি পরীক্ষামূলকভাবে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে প্রবাসীরা অন্তত ১০ ধরনের সেবা সহজে গ্রহণ করতে পারবেন।

পরিবেশ সুরক্ষায় পলিথিনের পরিবর্তে পাটজাত ব্যাগ ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে বিটিএমসির অধীন ১৬টি মিল পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে পরিচালনার উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন। শেষে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর অপব্যবহার রোধে সরকার বদ্ধপরিকর। ডিপফেক, মিথ্যাচার ও সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি একটি সচেতন ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল সমাজ গড়ে তুলতে সরকার ও নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।