
ভারতের প্রয়াত কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী জুবিন গার্গের জীবন ও স্মৃতিকে কেন্দ্র করে নতুন সিনেমা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন পরিচালক প্রীতম বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবিটির নাম রাখা হয়েছে ‘লাভ ইউ জুবিনদা’। সিনেমা নির্মাণের আগে জুবিনের স্ত্রী গরিমা শৈকিয়ার কাছ থেকেও অনুমতি নিয়েছেন পরিচালক। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকায় এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
পরিচালক প্রীতম বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, জুবিন গার্গকে কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতাই তাকে এই সিনেমা নির্মাণে অনুপ্রাণিত করেছে। এর আগে ‘ইডিয়ট’, ‘খোকা ৪২০’ ও ‘খিলাড়ি’সহ একাধিক সিনেমায় তার পরিচালনায় গান গেয়েছিলেন জুবিন। গান রেকর্ডিংয়ের কাজে প্রায়ই গুয়াহাটি যাতায়াত করতেন তিনি।
প্রীতম বলেন, রেকর্ডিং শেষে জুবিন নিজ হাতে রান্না করে অতিথিদের আপ্যায়ন করতেন। গুয়াহাটির বিভিন্ন স্থান ঘুরিয়ে দেখাতেন এবং দীর্ঘ সময় আড্ডার পর নিজেই গাড়ি চালিয়ে অতিথিদের হোটেলে পৌঁছে দিতেন।
পরিচালকের কাছে জুবিনের সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল তার মানবিকতা। তিনি জানান, পারিশ্রমিক পাওয়ার পর অনেক সময় রাতের বেলায় গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতেন জুবিন। ফুটপাথে ঘুমিয়ে থাকা মানুষের চাদরের নিচে নীরবে টাকা রেখে আসার মতো ঘটনাও তিনি করেছেন, যাতে সহায়তা গ্রহণকারী জানতে না পারেন কে সাহায্য করেছেন।
প্রীতম আরও জানান, একবার এক বৃদ্ধার দোকানে সামান্য খাবার খাওয়ার পর জুবিন মূল্য পরিশোধের চেয়ে অনেক বেশি টাকা দিয়ে দিয়েছিলেন। শীতের রাতে দরিদ্র মানুষের গায়ে কম্বল বা চাদর জড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন।
তার মতে, জুবিনের কণ্ঠে গান থাকলে সেটি শ্রোতাদের কাছে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা পেত। একজন শিল্পীর হৃদয় বড় হওয়া উচিত এবং জুবিন ছিলেন সেই ধরনের একজন মানুষ।
২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে মৃত্যুবরণ করেন জুবিন গার্গ। মৃত্যুর কয়েক দিন আগে প্রীতমের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল এবং ২৬ সেপ্টেম্বর দেখা করার পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু এর আগেই আসে তার মৃত্যুর খবর। এরপর থেকেই জুবিনকে শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি কাজ করার চিন্তা করেন পরিচালক।
জুবিনের মৃত্যুর পর আসামজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়। প্রীতমের দাবি, অনেক মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে দীর্ঘদিন আমিষ খাবার থেকে বিরত ছিলেন এবং বিভিন্ন জায়গায় মাংসের দোকানও বন্ধ রাখা হয়েছিল। তার ভাষ্য, আসামের অনেক মানুষ এখনো বিশ্বাস করতে পারেন না যে জুবিন আর তাদের মাঝে নেই।
পরিচালক জানান, জুবিন শুধু একজন শিল্পী ছিলেন না, তিনি মানুষের দুঃখ-কষ্টের খবর রাখতেন। কারও পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়া, কারও মেয়ের বিয়ে, কিংবা কারও চিকিৎসার প্রয়োজন— এমন নানা বিষয়ে তিনি নীরবে সহযোগিতা করতেন। নতুন সিনেমায় জুবিনের সেই অজানা মানবিক দিকগুলোই তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :