জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগে স্বৈরাচারী শাসনের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ১৬, ২০২৬, ৮:৩০ অপরাহ্ণ
জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগে স্বৈরাচারী শাসনের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে স্বৈরাচারী শাসনের কবল থেকে দেশ মুক্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আবু সাঈদসহ অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশে পরিবর্তন এসেছে। তাদের আত্মত্যাগ মানুষের বাঁচার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে এবং মুক্তির পথ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, “আমরা একটি স্বৈরাচারী শাসনের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছি। জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।” জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত যেমন একদিনে ঘটে না, তেমনি দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ থেকেই বড় ধরনের আন্দোলনের সৃষ্টি হয়। ২০০৯ সাল থেকেই নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে জুলাই আন্দোলনের পটভূমি তৈরি হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের সংগ্রাম ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এ সময়ে অসংখ্য নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, তৎকালীন সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, তাকে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করেছে এবং কারাবন্দি করে হয়রানি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ মানুষ দুঃশাসনে অতিষ্ঠ হয়ে আন্দোলনে যুক্ত হয়।

তিনি জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদের সাহসিকতার কথা উল্লেখ করে বলেন, “আবু সাঈদের মতো তরুণ বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে বলেছে ‘গুলি কর’। এটি ছিল বীরত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।” সাখাওয়াত হোসেন জানান, জুলাই আন্দোলনে শহীদদের পরিবার এবং আহত যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আহসানুল আজিজ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খোরশেদ আলম, যুগ্মসচিব ড. মুস্তাফিজুর রহমান ও কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল্লাহ। আলোচনা সভার শুরুতে জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদসহ সব শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।