জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত সীতাকুণ্ড, প্রশাসনের ত্রাণে মিলেছে সাময়িক স্বস্তি


সীতাকুণ্ড ক্রাইম রিপোর্টার, সেলিম  প্রকাশের সময় : জুলাই ১১, ২০২৬, ৮:১৩ অপরাহ্ণ
জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত সীতাকুণ্ড, প্রশাসনের ত্রাণে মিলেছে সাময়িক স্বস্তি

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানিতে নিমজ্জিত। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। কৃষিজমি, সবজিক্ষেত, মাছের ঘের ও পুকুরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় ধারাবাহিকভাবে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বাড়বকুণ্ড, মুরাদপুর, সৈয়দপুর, বারৈয়াঢালা, বাঁশবাড়িয়া, সলিমপুর, কুমিরা এবং উপকূলীয় জেলেপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৭০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

ত্রাণ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম। তার সঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্যরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।

পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলাউদ্দিন ভূঁইয়া জানান, আমিরাবাদ ও নামার বাজার এলাকার সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় মানুষের চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় বাসিন্দারা দুর্ভোগে পড়েছেন। দ্রুত পানি নিষ্কাশন এবং স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান তিনি।

মুরাদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দারাও জানান, বৃষ্টি কমলেও অনেক এলাকায় এখনো পানি নামেনি। এতে কৃষিজমি, সবজিক্ষেত ও মাছের ঘেরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রতিবছর একই ধরনের জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, পৌর এলাকার আমিরাবাদ ও নামার বাজারের বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে এখনো হাঁটুসমান পানি জমে রয়েছে। অনেক পরিবার ঘরের আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে মুরাদপুর, বাড়বকুণ্ড, সৈয়দপুর, বারৈয়াঢালা, কুমিরা ও বাঁশবাড়িয়ার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি এখনো পানির নিচে। সড়ক প্লাবিত থাকায় যান চলাচল ও মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মোরসালিন বলেন, দুর্যোগের শুরু থেকেই বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন আসলাম চৌধুরীর নির্দেশনায় দলের নেতাকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সরকারি ত্রাণ বিতরণে সহযোগিতার পাশাপাশি ছাত্রদল, যুবদল ও অন্যান্য অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সদস্যরাও নিজস্ব উদ্যোগে খাদ্য ও মানবিক সহায়তা বিতরণ করছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা প্রশাসনের অগ্রাধিকার। জঙ্গল সলিমপুর এলাকার এসএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও এসএম পাইলট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। সেখানে আশ্রয় নেওয়া মানুষের জন্য শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র ত্রাণ কার্যক্রম নয়, জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, খাল পুনঃখনন এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা জরুরি। অন্যথায় প্রতি বর্ষায় সীতাকুণ্ডের হাজারো মানুষকে একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হবে।