খাগড়াছড়ির বন্যায় এখনো পানিবন্দি সাড়ে ৩ হাজার পরিবার, দুর্গতদের পাশে থাকার আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর


খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি, আলমগীর হোসেন প্রকাশের সময় : জুলাই ১১, ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ণ
খাগড়াছড়ির বন্যায় এখনো পানিবন্দি সাড়ে ৩ হাজার পরিবার, দুর্গতদের পাশে থাকার আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর

খাগড়াছড়িতে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও জেলার অন্তত ৩০টি গ্রামের প্রায় সাড়ে তিন হাজার পরিবার এখনো পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রয়েছে দীঘিনালা উপজেলা। মেরুং এলাকায় সেতু পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় টানা চার দিন ধরে খাগড়াছড়ির সঙ্গে রাঙামাটির লংগদু সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইন।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, “খাগড়াছড়ির বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে সরকার সবসময় রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য যা যা প্রয়োজন, সরকার তা করবে। আপাতত খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে যাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের পুনর্বাসন এবং ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত জানান, জেলার প্রায় সাড়ে তিন হাজার পরিবার এখনও পানিবন্দি রয়েছে এবং প্রায় তিন হাজার মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন, পার্বত্য জেলা পরিষদ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং জেলা বিএনপির উদ্যোগে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ ও রান্না করা খাবার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বন্যা মোকাবিলায় ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় জেলা প্রশাসনের জন্য ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের অনুকূলে আরও ৪০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করেছে।

বন্যার কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভ্যন্তরীণ ও গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রায় এক হাজার হেক্টর জমির আমন বীজতলা, আউশ ধানের চারা, বিভিন্ন সবজির ক্ষেত এবং ফলের বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া কয়েকশ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে এবং পাহাড় ধসে জেলার বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বন্যা মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের সমন্বিত ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণেই দ্রুত দুর্গত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণকালে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. এন. আবছারসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।