একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২৯, ২০২৬, ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ
একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। দীর্ঘদিন নিউমোনিয়াজনিত জটিলতায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তার মৃত্যুতে দেশের শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

গত ১৪ জুন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন মুস্তাফা মনোয়ার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে স্থানান্তর করা হয়। কয়েক দিন আগে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়েছিল। তবে পরে অবস্থার আবারও অবনতি ঘটলে চিকিৎসকরা পুনরায় তাকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে নেন। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

এর আগে তার স্ত্রী মেরী মনোয়ার জানিয়েছিলেন, ফুসফুসে মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণে তিনি সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন। চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে তার চিকিৎসা চালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত জীবনযুদ্ধে হার মানেন এই গুণী শিল্পী।

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার জন্মস্থান নাকোল গ্রাম এবং পৈতৃক বাড়ি মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান। শৈশব থেকেই শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির পরিবেশে বেড়ে ওঠা মুস্তাফা মনোয়ার পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনের অন্যতম উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি চিত্রকলা, শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ, টেলিভিশন এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। বিশেষ করে শিশুদের জন্য নির্মিত জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ও সৃজনশীল উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠেন। শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে দেশের শিল্পী, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী, সহকর্মী এবং অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অনেকেই স্মৃতিচারণ করছেন এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

তার মৃত্যু দেশের শিল্প-সংস্কৃতির অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সৃজনশীল কর্ম, শিল্পভাবনা এবং সাংস্কৃতিক অবদান দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।