অনুদানের টাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করলেন জুলাই শহীদের বাবা!


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২৯, ২০২৬, ১:১৭ অপরাহ্ণ
অনুদানের টাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করলেন জুলাই শহীদের বাবা!

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ শেখ শাহরিয়ার বিন মতিনের বাবার বিরুদ্ধে ছেলের অনুদানের টাকা দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, শহীদ পরিবারের জন্য পাওয়া অর্থ থেকে সোয়া ৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার কিনে বিয়ে করেছেন মোহাম্মদ আব্দুল মতিন (৫০)। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেছেন, নিজের উপার্জনের অর্থেই তিনি বিয়ে করেছেন।

মোহাম্মদ আব্দুল মতিন রাজধানীর মতিঝিলে একটি প্রতিষ্ঠানে সেলস ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। তার প্রথম স্ত্রী মমতাজ বেগম (৪৫)। তাদের একমাত্র ছেলে শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হন। এছাড়া তাদের ১০ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ২২ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর গত ২৯ মে দ্বিতীয় বিয়ে করেন আব্দুল মতিন। এ বিয়েতে ৭ লাখ টাকার কাবিন এবং প্রায় সোয়া ৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার প্রথম স্ত্রী। শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জুলাই তার মৃত্যু হয়।

শহীদ শাহরিয়ারের মা মমতাজ বেগম অভিযোগ করেন, ছেলের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই তার স্বামী তার অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। তিনি বলেন, শহীদ পরিবারের জন্য পাওয়া অনুদানের অর্থ ব্যবহার করে বিয়ে করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি সঠিক বিচার দাবি করেন। মমতাজ বেগম আরও অভিযোগ করেন, তার স্বামী শহীদ ছেলের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়ম করেছেন এবং সরকারি সহায়তার অর্থ তোলার চেষ্টা করেছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত প্রমাণের দাবি করেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল মতিন বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের আগে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, ছেলের অনুদানের টাকা দিয়ে নয়, নিজের আয় থেকেই বিয়ের খরচ বহন করেছেন। তার ভাষ্য, পারিবারিক কারণে এবং বংশ রক্ষার জন্য তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন।

তিনি আরও বলেন, বিয়ের পর প্রথম স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছেন। বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

এদিকে, জুলাই যোদ্ধা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা এ ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, একজন জুলাই শহীদের পরিবারের সদস্য হিসেবে এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।