ঢাকার আশপাশে ভূমিকম্পের উৎস, বড় ঝুঁকির আশঙ্কা কতটুকু?


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২৪, ২০২৬, ৬:২৬ অপরাহ্ণ
ঢাকার আশপাশে ভূমিকম্পের উৎস, বড় ঝুঁকির আশঙ্কা কতটুকু?

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় আতঙ্ক বাড়ছে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে। গত কয়েক মাসে অনুভূত বেশিরভাগ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার কাছাকাছি এলাকায়, বিশেষ করে নরসিংদী ও আশপাশের অঞ্চলকে ঘিরে।

সর্বশেষ সোমবার (২২ জুন) রাত ৮টা ২৮ মিনিটে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এর উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।

তবে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায়, যা ঢাকা থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার পূর্বে। এ বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবায়েত কবীর বলেন, নরসিংদী থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে গেলে সেটি রূপগঞ্জ এলাকার মধ্যেই পড়ে।

এর আগে গত বছরের ২১ নভেম্বর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এটি ছিল সাম্প্রতিক কয়েক দশকের অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প। ওই ঘটনায় কয়েকজনের মৃত্যু এবং কয়েক শতাধিক মানুষের আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। ওই ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নরসিংদী এলাকায় আরও কয়েকটি কম্পন অনুভূত হয়। পরবর্তী সময়ে নরসিংদীর পলাশ, ঘোড়াশাল, শিবপুর এবং ঢাকার বাড্ডাসহ আশপাশের এলাকায় ছোট মাত্রার একাধিক ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ২২ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ ও সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘটিত বেশ কয়েকটি ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ঢাকার আশপাশে। এর মধ্যে চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ৩ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়।

ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, এসব ভূমিকম্প টেকটোনিক কার্যকলাপের কারণে হতে পারে। আবার কোনো সক্রিয় ফল্টের সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. বদরুদ্দোজা মিয়া বলেন, অনেক সময় নতুন ফল্ট তৈরি হয়, আবার দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা পুরোনো ফল্টও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকম্প গবেষক অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, ঢাকার আশপাশে সাম্প্রতিক ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প থেকে তাৎক্ষণিক বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা কম। তবে এগুলো ভূমিকম্প বিষয়ে সচেতন হওয়ার সুযোগ তৈরি করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হলো ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী ভূমিকম্প সৃষ্টি করতে সক্ষম ফল্টগুলো। সীমান্তবর্তী এলাকা এবং শ্রীমঙ্গল ও বগুড়ার শেরপুর অঞ্চলে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা রয়েছে। এসব এলাকার অনেকগুলো ঢাকার ১৫০ থেকে ২০০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকায় বড় ভূমিকম্পের সরাসরি পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়। তবে শহরের ঘনবসতি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও ভবনের ঝুঁকির কারণে বড় ভূমিকম্প হলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অনেক বেশি হতে পারে। ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবায়েত কবীর বলেন, ঢাকাকেন্দ্রিক বড় ভূমিকম্পের ইতিহাস নেই। তবে দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বড় ভূমিকম্পের রেকর্ড রয়েছে। গত কয়েক বছরে এ অঞ্চলে ভূমিকম্পের প্রবণতা কিছুটা বেড়েছে বলেও জানান তিনি।