আর্ন প্রকল্পের সার্ভিস প্রোভাইডার নিয়োগের ক্রয় প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন 


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২৪, ২০২৬, ৭:৩১ অপরাহ্ণ
আর্ন প্রকল্পের সার্ভিস প্রোভাইডার নিয়োগের ক্রয় প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন 

যুবসমাজকে দক্ষ করে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ইকোনমিক অ্যাকসিলারেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ফর নিট (আর্ন) প্রকল্পের আওতায় আট বিভাগে সার্ভিস প্রোভাইডার নিয়োগের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বুধবার (২৪ জুন) মন্ত্রিপরিষদের সভাকক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রকল্পের ১০টি প্যাকেজের সবগুলোর ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে যুবক ও যুব নারীদের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নেওয়া আর্ন প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষা, চাকরি বা প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী প্রায় ৯ লাখ যুবক-যুব নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ৬০ শতাংশই যুব নারী।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, বিশ্বব্যাংকের ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তায় পরিচালিত এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য গ্রামীণ অঞ্চলের যুবদের অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম করে তোলা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। একই সঙ্গে দেশের সৃজনশীল শিল্প ও ক্রীড়া শিল্পের বিকাশেও সহায়তা করবে প্রকল্পটি।

বিশ্বব্যাংকের ক্রয় নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের আট বিভাগের প্রকল্প এলাকাকে ১০টি প্যাকেজে ভাগ করে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে সার্ভিস প্রোভাইডার নির্বাচন করা হয়েছে। ৪০১টি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করলেও যাচাই-বাছাই শেষে ৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত করা হয়। পরে ৬৯টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব জমা দেয়।

মূল্যায়নের পর ব্র্যাক, সেভ দ্য চিলড্রেন, কেয়ার বাংলাদেশ এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশনকে কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্র্যাক ঢাকা ও রংপুর বিভাগে, সেভ দ্য চিলড্রেন বরিশাল, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম এলাকায়, কেয়ার বাংলাদেশ পার্বত্য তিন জেলা, খুলনা, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশন সিলেট বিভাগসহ কয়েকটি জেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে ৬৪ জেলার ২৫০ উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে ৮ লাখ যুবক ও যুব নারীকে সময়োপযোগী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

আর্ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কাজী মোখলেছুর রহমান বলেন, এটি শুধু প্রশিক্ষণভিত্তিক কোনো প্রকল্প নয়; বরং আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে যুবদের কর্মসংস্থান সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই এর মূল উদ্দেশ্য। গ্রামীণ পর্যায়ের যেসব যুব সাধারণত সরকারি-বেসরকারি সহায়তার বাইরে থাকে, তাদের জন্য এই প্রকল্প বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি স্ব-কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ইন্টার্নশিপ, আর্থিক সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনার মাধ্যমে যুবদের অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রকল্পের আওতায় বিকল্প শিক্ষা ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি, স্ব-কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যুব নারীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ চারটি মূল কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ প্রকল্প দেশের যুব সমাজকে কর্মমুখী করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।