শ্রীলঙ্কায় ডেঙ্গু মোকাবিলায় মাঠে নামছে সেনাবাহিনী


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২৪, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
শ্রীলঙ্কায় ডেঙ্গু মোকাবিলায় মাঠে নামছে সেনাবাহিনী

শ্রীলঙ্কায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। প্রতিদিন এক হাজারের বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। একই সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকের কার্যালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হচ্ছে।

সরকার জানিয়েছে, যারা এডিস মশার বংশবিস্তারের জন্য দায়ী পরিবেশ তৈরি করবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৃষ্টিপাত, সাম্প্রতিক বন্যার কারণে জমে থাকা পানি এবং অপরিকল্পিতভাবে ফেলে রাখা বর্জ্য ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার দ্রুত প্রজননের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এসব প্রজননস্থল পরিষ্কার ও ধ্বংস করতে বুধবার (২৪ জুন) থেকে দেশজুড়ে বিশেষ অভিযান শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকার। অভিযানে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর সদস্যরাও অংশ নেবেন।

শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে দেশটিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এ রোগে মৃত্যু হয়েছে ২৯ জনের। চলতি জুন মাস থেকে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে।

তবে বর্তমান পরিস্থিতি ২০১৭ সালের ভয়াবহ ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের তুলনায় এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কায় এক লাখ ৮৬ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং মারা গিয়েছিলেন ৪৪০ জন।

শ্রীলঙ্কার ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ইউনিট আশঙ্কা করছে, আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে থাকলে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোর ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হতে পারে। ইউনিটের প্রধান কপিলা কানানগারা সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালগুলো ইতোমধ্যে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। ২০১৭ সালের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জনগণকে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।