
পরিবেশ দূষণ করে কিংবা পরিবেশগত ছাড়পত্রের শর্ত অমান্য করে কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে আর সমঝোতার মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
বুধবার (২৪ জুন) সকালে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ভরাডোবা ইউনিয়নে শিল্পকারখানার বর্জ্যে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় সাড়ে তিনশ একর ফসলি জমি পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিল্পকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য খাল, নদী ও কৃষিজমিতে গিয়ে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে কৃষকরা ফসলি জমিতে বর্জ্য ফেলা বন্ধের দাবিতে আন্দোলন করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাননি। ভবিষ্যতে কোনো শিল্পকারখানার বর্জ্য যাতে নদী, খাল, বিল কিংবা কৃষিজমিতে না যায়, সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, পানি দূষণ রোধে বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। নতুন করে কোনো কারখানার দূষিত বর্জ্য যেন আশপাশের কৃষিজমিতে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে শিল্পাঞ্চলে স্থানীয় পর্যায়ে তদারকি টিম গঠনেরও পরামর্শ দেন তিনি।
পরিদর্শনকালে পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের দায়ে ‘এক্সপেরিয়েন্স’ নামের একটি কারখানার অবৈধ বর্জ্য নির্গমন সংযোগ সিলগালা করা হয়। এ সময় প্রতিমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, পুনরায় ওই সংযোগ চালু করা হলে কারখানাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো অবস্থাতেই অপরিশোধিত রাসায়নিক বর্জ্য খাল, নদী, বিল, জলাশয় কিংবা কৃষিজমিতে ফেলা যাবে না। পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোরভাবে আইন মেনে চলতে হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। কেউ সহযোগিতা না করলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে নতুন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।
পরে জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফিরোজ হোসেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ভালুকা শাখার সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান পাঠান কামাল, উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রকিবুল হাসান রাসেল, কৃষক প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
সভায় কৃষিজমি ও জলাশয় রক্ষায় পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আপনার মতামত লিখুন :