
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভানুয়াই এলাকার বাসিন্দা, মৃত বাবুল ভূঁইয়ার ছেলে প্রবাসী রাকিবের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে এখনো কাটেনি ধোঁয়াশা। ঘটনার কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তদন্তকারী সংস্থা এ ঘটনায় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মৃত্যুর আগে রাকিব তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একাধিক স্ট্যাটাসে পারিবারিক বিরোধ, আত্মীয়দের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন, সম্পত্তি-সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব এবং মানসিক চাপের ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য প্রকাশ করেছিলেন। এসব পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলেও সেগুলো তদন্তের আওতায় রয়েছে কি না, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
এদিকে, মৃত্যুর আগে রাকিবের মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়েছে বলে দাবি করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে তাকে মানসিক অস্থিরতার কথা বলতে এবং কিছু ওষুধ সেবন করতে দেখা যায় বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা বা উৎস সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, রাকিবের মরদেহ ঘরের ভেতর গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ তথ্য সামনে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—যদি তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এখনো উদ্ধার না হয়ে থাকে, তাহলে সেই ফোনে ধারণ করা বলে প্রচারিত ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কীভাবে ছড়িয়ে পড়ল? বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে রাকিবের পারিবারিক জীবন নিয়ে নানা ধরনের দাবি, পাল্টা দাবি ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও, সেসব তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তদন্তকারী সংস্থাও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। ফলে এসব বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মৃত্যুর আগে ধারণ করা ভিডিও, নিখোঁজ মোবাইল ফোন, ডিজিটাল আলামত, পারিবারিক বিরোধ এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য সব বিষয় আধুনিক প্রযুক্তি ও ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক।
এলাকাবাসীর মতে, তদন্তে যদি আত্মহত্যায় প্ররোচনা, হত্যাকাণ্ড বা অন্য কোনো ফৌজদারি অপরাধের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তারা বহুল আলোচিত এ মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার কার্যকর ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :