কঙ্গোর জঙ্গলে মিলল কমলা ঠোঁটওয়ালা বিরল বানর


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ১৬, ২০২৬, ৬:০৪ অপরাহ্ণ
কঙ্গোর জঙ্গলে মিলল কমলা ঠোঁটওয়ালা বিরল বানর

আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) ঘন গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অরণ্যে সন্ধান মিলেছে এক নতুন প্রজাতির বানরের। কালো মুখ ও দেহের সঙ্গে উজ্জ্বল কমলা-গোলাপি ঠোঁটের এই বিরল বানরকে দীর্ঘ গবেষণার পর নতুন প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

নতুন এই বানরের বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে কলোবাস কঙ্গোয়েনসিস (Colobus congoensis)। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে এটি ‘লিকওয়েলি’ নামে পরিচিত। বিজ্ঞানীদের মতে, গত ৭৫ বছরে আফ্রিকা মহাদেশে বৈজ্ঞানিকভাবে শনাক্ত হওয়া এটি মাত্র পঞ্চম নতুন প্রজাতির বানর।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ডিআর কঙ্গোর মধ্য-পূর্বাঞ্চলের লোমামি জাতীয় উদ্যানের গভীর অরণ্যে এই বানরের সন্ধান পাওয়া গেছে। সংরক্ষণকর্মীরা প্রথম ২০০৮ সালে প্রাণীটিকে দেখতে পান। তখন কেবল একটি অস্পষ্ট ছবি ধারণ করা সম্ভব হয়েছিল। প্রায় এক দশক পর আবারও বানরটির দেখা পাওয়ার পর কঙ্গো, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির গবেষকদের সমন্বয়ে একটি দল এর ওপর বিস্তারিত অনুসন্ধান শুরু করে। গবেষণায় শব্দ বিশ্লেষণ, আলোকচিত্র এবং জিনগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি পরিচিত অন্যান্য কলোবাস বানর থেকে জিনগতভাবে আলাদা একটি স্বতন্ত্র প্রজাতি।

ফ্লোরিডা আটলান্টিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক জুনিয়র আমবোকো বলেন, এত কম পরিচিত একটি প্রাণীর সন্ধান পাওয়া ছিল অত্যন্ত রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। তিনি জানান, বানরটি খুবই লাজুক প্রকৃতির এবং বেশিরভাগ সময় গাছের অনেক উঁচুতে অবস্থান করে। ফলে সহজে মানুষের চোখে পড়ে না। গবেষকরা জানান, স্থানীয় মানুষ বহুদিন ধরেই ‘লিকওয়েলি’ সম্পর্কে জানতেন। ৫২টি গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার পর মাত্র আটটি গ্রামের মানুষ এই বানর দেখেছেন বলে জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী পিএলওএস ওয়ান (PLoS One)-এ প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, কলোবাস গোত্রের বানর আফ্রিকার বনাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তারা ফল ও পাতা খাওয়ার মাধ্যমে বীজ ছড়িয়ে দেয়, যা বন পুনর্জন্মে সহায়তা করে। প্রাণিবিজ্ঞানীদের ধারণা, বানরটির উজ্জ্বল কমলা-গোলাপি ঠোঁট সঙ্গী আকর্ষণ বা নিজেদের মধ্যে পরিচয় শনাক্ত করার সংকেত হিসেবে কাজ করতে পারে। এছাড়া এদের রয়েছে গভীর ও প্রতিধ্বনিময় ডাক, যা অনেক দূর পর্যন্ত শোনা যায়।

তবে বর্তমানে এই প্রজাতির সংখ্যা খুবই সীমিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে মাংসের জন্য শিকারসহ বিভিন্ন কারণে প্রাণীটি হুমকির মুখে রয়েছে। নতুন প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় এখন এর সংরক্ষণে আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে আশা করছেন গবেষকরা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, লিকওয়েলির প্রকৃত সংখ্যা, বিস্তৃতি ও জীবনযাপন সম্পর্কে এখনো অনেক তথ্য অজানা। এ কারণে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত জরিপ ও গবেষণার পরিকল্পনা রয়েছে।