নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন জটিলতা, পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ আইএমএফের


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ২৭, ২০২৬, ৯:২৮ পূর্বাহ্ণ
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন জটিলতা, পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ আইএমএফের

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আর্থিক সক্ষমতা, রাজস্ব আহরণ এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য চাপের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) নতুন বেতন কাঠামো অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তবে সরকার এখনই এ সুপারিশ মেনে নেওয়ার পথে হাঁটছে না। বরং বিষয়টি আরও বিশ্লেষণ করে বাস্তবায়নের উপযোগী কৌশল নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ঢাকা সফরে আসা আইএমএফের প্রতিনিধিদল অর্থ বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে নবম পে-স্কেলের সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। সংস্থাটির মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন বেতন কাঠামো চালু হলে সরকারের নিয়মিত ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে বাজেট ঘাটতি বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আইএমএফ অন্তত দুই বছর নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। তবে সরকার বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আরও পর্যালোচনার পথ বেছে নিয়েছে।

জানা গেছে, রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী এক বৈঠকে নবম পে-স্কেলের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে সচিব কমিটির সুপারিশ, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো, সম্ভাব্য ব্যয় এবং বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতা নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। এতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের আর্থিক প্রভাব, সরকারের রাজস্ব সক্ষমতা এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো তুলে ধরা হলে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি আরও বিশ্লেষণ করে সুপারিশ দেওয়ার নির্দেশ দেন।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নবম পে-স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে অথবা আগামী সপ্তাহে কোনো এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি তোলা হতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, সরকার নীতিগতভাবে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে চায় না। তবে একসঙ্গে পুরোপুরি কার্যকর করার পরিবর্তে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

বর্তমান অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হয় ২০১৫ সালে। এরপর এক দশকের বেশি সময় ধরে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি। এ সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয়, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় নতুন পে-স্কেলের দাবি জানিয়ে আসছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে প্রায় ১৫ লাখ সরকারি চাকরিজীবী এবং কয়েক লাখ পেনশনভোগী এর আওতায় আসবেন। প্রস্তাবিত কাঠামোয় মূল বেতনের পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ও রয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ বর্তমানে আইএমএফের ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় সাড়ে ৬ বিলিয়ন ডলারের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা চলছে। এ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পুনরাবৃত্ত ব্যয় বাড়ানোর আগে রাজস্ব সক্ষমতা, বাজেট ঘাটতি এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ঝুঁকি বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ। নবম পে-স্কেল নিয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা আশা করছেন, দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হবে।