আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ২৭, ২০২৬, ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ
আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের পরিবর্তিত নিরাপত্তা বাস্তবতায় সময়োপযোগী, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা এবং জনগণের প্রত্যাশার আলোকে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি। রোববার (২৬ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে সেনাসদর দপ্তরে আয়োজিত ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ সামুদ্রিক ও সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তঃরাষ্ট্রীয় ও আন্তঃসীমান্ত হুমকি, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যযুদ্ধ, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং মানবিক সহায়তাসহ বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তাই ড্রোন প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট নজরদারি, সাইবার ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা প্রণয়ন করছে। যেখানে সংখ্যার পরিবর্তে সক্ষমতা, সম্প্রসারণের পাশাপাশি কার্যকারিতা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ এবং গণতান্ত্রিক সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ওপর জোর দেওয়া হবে।

তারেক রহমান বলেন, মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততার ভিত্তিতে পদোন্নতি ও পদায়নের মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব আরও সুসংহত হবে। তিনি বলেন, একজন সেনা কর্মকর্তার পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধার পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতা ও ফিটনেসও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বেই স্বাধীনতার পর সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে একটি সমন্বিত জাতীয় নিরাপত্তা নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে, যেখানে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন, শিল্প, প্রযুক্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণ সম্মিলিতভাবে কাজ করবে।

তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা রক্ষা, সীমান্ত এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়ন, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ২০২৫ সালে দক্ষিণ সুদানে ড্রোন হামলায় নিহত ছয় শান্তিরক্ষী এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে শাহাদাতবরণকারী সেনাসদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সংকট, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং জাতীয় বিভিন্ন সংকটে সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকা জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই নির্বাচনী পর্ষদের মাধ্যমে নির্বাচিত কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব, সাফল্য ও গৌরবের ধারাবাহিকতা আরও শক্তিশালী করবেন। শেষে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দর্শন— “সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।”