দুই স্কুলে ‘হরিলুট’: ১৪১ ভুয়া শিক্ষক ও উধাও ১৫ কোটি


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ২০, ২০২৬, ৪:০৯ অপরাহ্ণ
দুই স্কুলে ‘হরিলুট’: ১৪১ ভুয়া শিক্ষক ও উধাও ১৫ কোটি

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) তদন্তে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভয়াবহ অনিয়ম ও জালিয়াতির তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তে দেখা গেছে, দুই প্রতিষ্ঠানে মোট ১৪১ জন শিক্ষকের নিয়োগ অবৈধ। তাদের মধ্যে অনেকে জাল সনদ, ভুয়া নিয়োগ বোর্ড, ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ ও এনটিআরসিএ সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি নিয়েছেন।

ডিআইএর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়, সিদ্ধেশ্বরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ১৩৩ জন শিক্ষকের মধ্যে ৬৮ জনের নিয়োগে জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিতে অবৈধভাবে বেতন-ভাতা গ্রহণ, কেনাকাটায় অনিয়ম, হিসাব জালিয়াতি ও তহবিল অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রায় ১৫ কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৭৬ জন শিক্ষকের মধ্যে ৭৩ জনের নিয়োগ অবৈধ বলে প্রমাণ পেয়েছে ডিআইএ। তদন্ত প্রতিবেদন দুটি সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

ডিআইএর পরিচালক এম এম সহিদুল ইসলাম মঙ্গলবার (১৯ মে) গণমাধ্যমকে বলেন, “শিক্ষক নিয়োগে জালিয়াতি ও আর্থিক অনিয়মের প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে মন্ত্রণালয়।”

তদন্তে আরও জানা গেছে, সারা দেশে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার জাল সনদধারী শিক্ষক শনাক্ত হয়েছে। তাদের বেতন-ভাতা বাবদ সরকারি কোষাগার থেকে প্রায় ৩৭৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, যা ফেরত নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

সিদ্ধেশ্বরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. সাহাব উদ্দিন মোল্লা ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. দেলুয়ার হোসেন ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দ্বিগুণ হারে উৎসব ভাতা নিয়েছেন। এছাড়া সাহাব উদ্দিন অবৈধভাবে প্রায় ৯৭ লাখ এবং দেলুয়ার হোসেন প্রায় ৮০ লাখ টাকা বেতন নিয়েছেন। দেলুয়ার হোসেনের নিয়োগ বিধিসম্মত না হওয়ায় আরও প্রায় ৩৮ লাখ টাকা ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির তহবিল থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অবৈধভাবে ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিধিবহির্ভূতভাবে কোটি কোটি টাকার এফডিআর, জেনারেটর ও লিফট কেনায় অনিয়ম, ত্রাণ তহবিলের টাকা আত্মসাৎ এবং হিসাব গোপনের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

এদিকে বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ইমদাদুল হকের বিরুদ্ধে নিজের পরিবারের সদস্য ও ব্যক্তিগত গাড়িচালকসহ ১১ জনকে জাল সনদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ডিআইএর প্রতিবেদনে বলা হয়, তার নিজের শিক্ষাগত সনদও জাল। নিয়োগের নামে ঘুষ নেওয়া এবং শিক্ষকদের বেতন থেকে অংশ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুয়া নিয়োগ পাওয়া এসব ব্যক্তিকে দেওয়া বেতন-ভাতা বাবদ সরকারি কোষাগারের ৫ কোটি ৫৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ফেরত আনার সুপারিশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে অধ্যক্ষ ইমদাদুল হকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও ফৌজদারি মামলা করারও সুপারিশ করেছে ডিআইএ।