১ অর্থবছরে ৭১৮ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছে বেপজা 


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ১৬, ২০২৬, ৪:৩৯ অপরাহ্ণ
১ অর্থবছরে ৭১৮ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছে বেপজা 

এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ ৭১৭ দশমিক ৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের নতুন বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)। এসব বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৭৫ হাজার ৭৪৪ জন বাংলাদেশির নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট রপ্তানি সামান্য কমলেও বেপজার আওতাধীন শিল্পাঞ্চলগুলোর রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ২ শতাংশ।

বুধবার (১৫ জুলাই) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বেপজা এ তথ্য জানায়।

বেপজার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট রপ্তানি হয়েছে ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বেপজার আওতাধীন শিল্পাঞ্চল থেকে রপ্তানি হয়েছে ৮ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, যা দেশের মোট রপ্তানির ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এ রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৮ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার। ফলে দেশের মোট রপ্তানি শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কমলেও বেপজার রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ২ শতাংশ।

সংস্থাটি জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, সামোয়া এবং বাংলাদেশের ৩৬টি প্রতিষ্ঠান বেপজার বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে কারখানা স্থাপনের জন্য লিজ চুক্তি করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ ৭১৭ দশমিক ৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বেপজার ইতিহাসে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ।

বেপজা বলছে, নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে গেলে প্রায় ৭৫ হাজার ৭৪৪ জনের কর্মসংস্থান হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই প্রচলিত তৈরি পোশাকের বাইরে বহুমুখী পণ্য উৎপাদন করবে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাগ ও লাগেজ, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য, ব্লুটুথ হেডফোন, ড্রোন, খেলনা, চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল পণ্য, কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং বিভিন্ন গৃহস্থালি সামগ্রী।

সংস্থাটির মতে, দ্রুত ও বিনিয়োগবান্ধব সেবা নিশ্চিত করায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় অনেক বিদ্যমান বিনিয়োগকারীও নতুন করে ব্যবসা সম্প্রসারণে এগিয়ে আসছেন। উদাহরণ হিসেবে চীনের কাইশি গ্রুপ দ্বিতীয় দফায় আরও ৪০ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের জন্য নতুন লিজ চুক্তি করেছে।

সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণেও ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেপজা অঞ্চলে মূলধনী যন্ত্রপাতি, নির্মাণসামগ্রী ও অন্যান্য সম্পদে ২৮৬ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন ডলারের প্রকৃত বিনিয়োগ হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে বেপজার এফডিআই নেট ইনফ্লো ছিল ২২১ দশমিক ৫৮ মিলিয়ন ডলার, যা দেশের মোট এফডিআই নেট ইনফ্লোর প্রায় ১৯ দশমিক ৬১ শতাংশ।

কর্মসংস্থানেও নতুন রেকর্ড গড়েছে বেপজা। এক বছরে ২৫ হাজার ১৬৪ জনের নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের জুন শেষে বেপজার আওতাধীন শিল্পাঞ্চলগুলোতে মোট কর্মসংস্থান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৬৯১ জনে, যা সংস্থাটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

বর্তমানে বেপজার অধীনে আটটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) ও একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিচালিত হচ্ছে। এসব অঞ্চলে মোট ৫৬৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে ৪৫১টি উৎপাদনে রয়েছে এবং ১১৫টি বাস্তবায়নাধীন। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বেপজা অঞ্চলে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৭ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং মোট রপ্তানির পরিমাণ ১২৭ দশমিক ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।