
শেষ বাঁশি বাজবে। কেউ ছুটবেন ফাইনালের উল্লাসে, কেউ দাঁড়িয়ে যাবেন হতাশায়। কেউ সতীর্থকে জড়িয়ে ধরবেন, কেউ মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়বেন। তবে সেই আবেগঘন মুহূর্তে হয়তো ইংল্যান্ডের কোনো এক ফুটবলারের চোখ থাকবে অন্য কিছুর দিকে—আকাশি-সাদা ডোরাকাটা একটি জার্সি। পিঠে লেখা থাকবে ‘মেসি’, আর নিচে ১০ নম্বর।
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল শুধু ফাইনালের টিকিট পাওয়ার লড়াই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরেকটি সম্ভাব্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ডের কোনো খেলোয়াড় কি পাবেন লিওনেল মেসির জার্সি? যদি এটিই হয়ে যায় বিশ্বকাপে মেসির শেষ ম্যাচ, তাহলে সেই জার্সির মূল্য হয়ে উঠবে অপরিসীম।
ফুটবলে ম্যাচ শেষে জার্সি বদলের রীতি বহু পুরোনো। মাঠের ৯০ মিনিটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষ হওয়ার পর খেলোয়াড়রা একে অপরের কাছে এগিয়ে যান, করমর্দন করেন, আলিঙ্গন করেন এবং স্মৃতি হিসেবে বিনিময় করেন নিজেদের জার্সি। তবে সব জার্সির গল্প এক নয়। কিছু জার্সি সময়ের সঙ্গে সাধারণ পোশাক থেকে হয়ে ওঠে ইতিহাসের অংশ।
মেসির ১০ নম্বর জার্সিও তেমনই এক সম্ভাব্য স্মারক। বয়সের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপের এই আসর হতে পারে তার শেষ অভিযান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় মানে ফাইনালের মঞ্চে আরও একবার নামার সুযোগ, আর হার মানে বিশ্বকাপ অধ্যায়ের সমাপ্তি। তখন তার গায়ের জার্সিটি হয়ে উঠতে পারে এক অমূল্য স্মৃতি। সেটির মূল্য শুধু অর্থ দিয়ে পরিমাপ করা যাবে না। সেখানে থাকবে ঘামের দাগ, মাঠের ঘাসের ছোঁয়া এবং একটি কিংবদন্তির শেষ বিশ্বকাপ লড়াইয়ের গল্প।
হয়তো ইংল্যান্ডের কোনো খেলোয়াড় ম্যাচের আগেই মনে মনে ঠিক করে রেখেছেন—শেষ বাঁশির পর মেসির কাছে যাবেন, তার জার্সি চাইবেন। সেই খেলোয়াড় কে হবেন, তা এখনো অজানা। তিনি হতে পারেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক, দলের কোনো তারকা কিংবা এমন কোনো তরুণ ফুটবলার, যিনি ছোটবেলা থেকে মেসির খেলা দেখে বড় হয়েছেন।
যদি আর্জেন্টিনা হেরে যায়, তাহলে সেটি হবে বিশ্বকাপে মেসির শেষ পরা জার্সি। যে খেলোয়াড় পাঁচটি বিশ্বকাপ পেরিয়ে ষষ্ঠ আসরে এসে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছেন, তার শেষ ম্যাচের স্মৃতি হয়তো অন্য এক ফুটবলারের সংগ্রহে থাকবে।
আর যদি আর্জেন্টিনা জয় পায়, তাহলে গল্পটি হবে ভিন্ন। সেই জার্সি হবে মেসির শেষ বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল জয়ের স্মারক—যে জার্সি পরে তিনি আরেকটি ফাইনালের পথে এগিয়েছিলেন। আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি একসময় ছিল দিয়েগো ম্যারাডোনার পরিচয়। এখন সেটি মিশে গেছে মেসির নামের সঙ্গে। এই জার্সিতে আছে ব্যর্থতার কষ্ট, ২০১৪ সালের ফাইনালের হতাশা এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ।
শেষ বাঁশির পর ক্যামেরার আলো থাকবে মেসির ওপর। তার মুখে থাকবে জয়ের হাসি কিংবা বিদায়ের বিষণ্নতা। সেই মুহূর্তে যদি কোনো ইংলিশ খেলোয়াড় তার সামনে এসে দাঁড়ান, আর মেসি খুলে দেন নিজের ১০ নম্বর জার্সি—তাহলে সেটি শুধু জার্সি বিনিময় হবে না, হবে ফুটবল ইতিহাসের এক অধ্যায়ের হাতবদল।
আপনার মতামত লিখুন :