গাব খাওয়ার এত স্বাস্থ্য উপকারিতা জানলে অবাক হবেন


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ১৪, ২০২৬, ১২:১১ অপরাহ্ণ
গাব খাওয়ার এত স্বাস্থ্য উপকারিতা জানলে অবাক হবেন

বর্ষা মৌসুমে বাজারে সহজেই পাওয়া যায় দেশীয় ফল গাব। একসময় গ্রামবাংলার পরিচিত এই ফল এখন শহরের বিভিন্ন ফলের দোকান ও ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের কাছেও মিলছে। সুস্বাদু হওয়ার পাশাপাশি পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হওয়ায় মৌসুমে খাদ্যতালিকায় গাব রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা।

গাবের প্রধানত দুটি জাত রয়েছে—দেশি গাব ও বিলিতি গাব। এর মধ্যে বিলিতি গাব বেশি জনপ্রিয়। গাঢ় বেগুনি বা লালচে রঙের এই ফলের নরম খোসার ভেতরে থাকে দুধ-সাদা, কোমল ও সুগন্ধযুক্ত শাঁস, যা স্বাদে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গাবে রয়েছে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নানা পুষ্টি উপাদান। এতে খাদ্যশক্তি, পানি, শর্করা, আমিষ, খাদ্য আঁশ, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, লোহা, ভিটামিন এ ও ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এসব উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

গাবে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি সর্দি-কাশি, জ্বর ও বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

এ ছাড়া গাবে থাকা খাদ্য আঁশ হজমশক্তি উন্নত করতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক। নিয়মিত আঁশসমৃদ্ধ খাবার খেলে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে সাহায্য করে, আর পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। কিছু গবেষণায় গাবের উপাদান রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, ডায়াবেটিসের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গাবে থাকা ফসফরাস ও অন্যান্য খনিজ উপাদান হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে এবং হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে গাবের খোসার রস আমাশয় বা পাতলা পায়খানায় কার্যকর—এ ধরনের প্রচলিত ধারণার পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও সীমিত।

স্বাদ ও পুষ্টিগুণের সমন্বয়ে গাব একটি উপকারী মৌসুমি ফল। তাই মৌসুমে পরিমিত পরিমাণে গাব খেলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে পারে এবং সুস্থ জীবনযাপনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।